ব্রেকিং নিউজ :
News Tangail

আসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বিএনপি, ছাড় দিতে রাজি নয় শরিকরাও

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিএনপির পুরনো শরিকদের জন্য ৬৫ আসনের বেশি ছাড়তে চায় না বিএনপি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বড়জোর ৭০ আসন ছাড়ার কথা ভেবে দেখতে পারে বলেও জানিয়ে দিয়েছে দলটি।

যদিও এর আগে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ দল গণফোরাম ১০০ আসন, আ স ম আবদুর রবের জেএসডি ২০, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য ৩৫টি আর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ১২টি আসন দাবি করলেও তাদের সেই দাবি পূরণ করতে কোন তৎপরতাই নেই বললেই চলে। বরং জাতীয় ঐক্যে গঠনের আগে ঐক্যে আসা শরিকদের বড় ছাড় দিতে বিএনপির আগ্রহের কথাও ভুলতে বসেছে বিএনপি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা যে ৬৫টি আসন ছেড়ে দিতে চায় তার মধ্যে নবগঠিত ঐক্যফ্রন্টের জন্য সর্বোচ্চ ২০টি এবং ২০ দলীয় (সম্প্রসারিত ২৩ দল) জোটের শরিকদের ৪৫টি আসন দেয়া হবে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামকেই ২৪টি আসন দেয়া হবে। যদিও তাতেও খুশি নয় জামায়াত। তারা অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ আসন চাইছে। শেষ পর্যন্ত তারা ৩৫টি আসনে অনড় থাকবে বলেও জানা গেছে।

তবে ঐক্যফ্রন্টের কোন দলকে কতটি আসন দেয়া হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। এক্ষেত্রে মান্না ও আ স ম আবদুর রবকে নিয়ে বেশি ঝক্কি ঝামেলা হচ্ছে। কারণ, তারা যেসব আসন দাবি করছেন তা বিএনপির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবদিক ঠিক রেখে আসন হাতছাড়া করতে একেবারেই নারাজ বিএনপি। এমনকি গণফোরামের সঙ্গে সমঝোতা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেও বিফল হয়েছে বিএনপি তথা গণফোরামও।

এদিকে আসন বণ্টন নিয়ে নিজে ছাড় দিতে রাজি না হলেও বিএনপি আশা করছে শরিকদের নমনীয় করতে। কিন্তু বিএনপির এমন আশায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওই শরিকরাই। তারাও কিছুতেই নমনীয় হচ্ছে না।

এমন প্রেক্ষাপটে নাগরিক ঐক্যের প্রধান মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা ৩৫ আসন দাবি করেছি। অন্তত ৩০ আসনে সমঝোতা হতে পারে। এর কমে নয়। আশা করছি এ আসন সমাধানে পৌঁছবে বিএনপি।

এদিকে এলডিপি সভাপতি ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ আসন নিয়ে কিছুটা চুপ থাকলেও তিনি বিভিন্ন মারফত জানিয়ে দিয়েছেন, তারা ‘অন্যায় আবদার’ করবেন না। দলের যোগ্যদের মনোনয়ন চেয়েছেন। এছাড়াও যেহেতু শরিকদের বড় ছাড় দিতে বিএনপির সম্মতি আছে ফলে অন্তত ২০ আসন তাদের প্রাপ্য।

জাতীয় ঐক্যসহ ২০ দলীয় জোটের শরিকদের প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। এমনকি বিএনপিও তার অবস্থানে অনড়। এমন প্রেক্ষাপটে নিজের দাবি থেকে সরে আসতে কেউই রাজি নয়। এমতাবস্থায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শরিকরা জোটের অংশীদার মাত্র, নির্ধারক নয়। ফলে আশা করছি দলের সিদ্ধান্ত তারা বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নেবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.