News Tangail

জামায়াত নেতাদের হাতে ধানের শীষ: মুক্তিযোদ্ধা দলের মনোনয়ন বঞ্চিতদের ক্ষোভ প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক: নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলীয় ব্যানারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দল ও প্রতীক বাতিল হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত নেতারা অংশগ্রহণ করবেন।

সূত্র বলছে, ধানের শীষে জামায়াত নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ায় বঞ্চিত হচ্ছেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা। যুদ্ধাপরাধীদের ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে সুযোগ করে দেয়ায় দলের উপর অভিমান করে গোপনে দলত্যাগ করছেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের অনেক নেতা।

এদিকে, জামায়াতের প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়ায় দলের ভেতর অন্তর্কোন্দল তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তথ্যসূত্র বলছে, জামায়াত স্বতন্ত্র হিসেবে এককভাবে ৬১ আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ায় আপাতত ২৫টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছে যুদ্ধাপরাধের দায়ে নিষিদ্ধ জামায়াত। সেক্ষেত্রে তাদের মার্কা ধানের শীষ হবে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের একাধিক সূত্র জানায়, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা দলের একাধিক সিনিয়র নেতা আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে ব্যাপক আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু গুঞ্জন চাউর হয়েছে যে, তারেক রহমানকে ম্যানেজ করে জোট টিকিয়ে রাখতে অর্থের বিনিময়ে জামায়াত প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ করে দিচ্ছেন বিএনপির কিছু সিনিয়র নেতা। গুঞ্জনের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহাসচিবের কাছে একটি প্রতিবাদ লিপি দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের অন্যতম নেতা ডা. মমতাজ হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে সব আন্দোলন-সংগ্রাম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছি। এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আমি সাক্ষাৎকারেও অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় হঠাৎ দেখি আমার আসন থেকে জামায়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। সে একজন চিহ্নিত রাজাকার। একজন রাজাকারকে এ আসন থেকে মনোনয়ন দিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব আমাকে চরম অপমান করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছে। জীবন বিপন্ন করে যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছি, সেই পরাজিত ও পাকিস্তানী শক্তির অধীনে মুক্তিযোদ্ধারা কোনদিনই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। তাই আমি দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ।

অপরদিকে কুমিল্লা-১১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা কাজী নাসিমুল হক নাসিম বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে ধানের শীষে লড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু রাজাকার পুত্র ও জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরকে অর্থের বিনিময়ে বিএনপির কিছু কেন্দ্রীয় নেতার যোগসাজশে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। তাই একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে দলের মহাসচিবকে প্রতিবাদ পত্র দিয়ে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছি। জামায়াত নেতাকে মনোনয়ন দেয়ায় এই আসনে বিএনপির ভোট বিভক্ত হয়ে গেছে। জেনেশুনে কেউ রাজাকারের সন্তানকে ভোট দিবে না বলে আমার ধারণা। ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এই আসনটি হাতছাড়া করতে যাচ্ছে বিএনপি।

জামায়াত নেতাদের ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ করে দেয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন রাঙামাটির একটি আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা দলের সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় রাঙামাটিতে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকারী লেঃ কর্নেল (অব.) মণীষ দেওয়ান। মনের দুঃখে তিনি ফেসবুকের স্ট্যাটাসে বিবৃতিও দিয়েছেন। তিনি সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও দেশবিরোধীদের নিকট মনোনয়ন যুদ্ধে পরাজিত হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেই স্ট্যাটাসটি দেন।

এদিকে, সার্বিক বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার প্রেক্ষিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় তারা অচিরেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপের কথা দেশবাসীকে অবহিত করবেন বলে জানা গেছে ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.