ব্রেকিং নিউজ :
News Tangail

যোগ্যতার অভাবে নৌকায় ভিড়তে না পেরে তারা এখন বিএনপিতে

নিউজ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের এক সময়ের ডাকসাইটের নেতারা এবার বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েকজন বিএনপির দলীয় মনোনয়নের চিঠি নিয়েছেন। গুঞ্জন উঠেছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে নূন্যতম যোগ্যতার পরীক্ষায় উৎরাতে ব্যর্থ হয়ে পদের লোভে বিএনপির মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন এসব বিতর্কিত ও অজনপ্রিয় নেতারা। চলুন জেনে নেয়া যাক দল পাল্টানো ও ডিগবাজির পুরোধাখ্যাত এসব নেতাদের অতীত ইতিহাস….

ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশের সংবিধানের প্রণেতা হিসেবেই অধিক পরিচিত। ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে আইনমন্ত্রী এবং ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে তাকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গণফোরাম নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন ড. কামাল হোসেন। এবার তার নেতৃত্বে ধানের শীষে নির্বাচন করবে গণফোরাম। অথচ এই ধানের শীষ ও বিএনপি নিয়ে অতীতে অনেক প্রশ্ন তুলেছিলেন ড. কামাল। তিনি একবার বলেছিলেন, ধানের শীষ প্রতীক হলো জনগণের ভোটাধিকার হরণের প্রতীক। অথচ শেষ বয়সে দেশ শাসনের দিবা-স্বপ্ন দেখে সেই ধানের শীষ প্রতীক আঁকড়ে ধরেছেন ড. কামাল হোসেন।

আওয়ামী লীগ আমলের সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থী নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পরীক্ষায় ফেল করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী এবং দলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সারা জীবন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলেও ব্যক্তিগত লোভ ও লালসার কাছে পরাজিত হয়ে এমপি হওয়ার জন্য ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন।

আ.স.ম. আবদুর রব বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক। ১৯৭১ সালে অন্যদের সঙ্গে ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক বটতলায় শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দেন। স্বাধীনতার পর আ. স. ম.আবদুর র রব নতুন দল জাসদ গঠন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলে গিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মতো বিতর্কিত দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন।

ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এক সময়ের মাঠ কাঁপানো ছাত্র নেতা নৌকার হাল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে বগুড়া-২ আসনে ধানের শীষে মনোনয়ন পাচ্ছেন তিনি। হাস্যকর ব্যাপার হলো, মান্নার নাগরিক ঐক্য অনিবন্ধিত দল। তাই নির্বাচন করতে সেই ধানের শীষকে বেছে নিয়েছেন মান্না। মান্নার এমন সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শুধু মাত্র এমপি হওয়ার বাসনায় নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে মান্না পরাজিত শক্তিদের মিছিলে যোগ দিয়েছেন বলেও গুঞ্জন চাউর হয়েছে।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এক সময়ের প্রতাপশালী এই ছাত্রনেতা দায়িত্ব পালন করেছেন ডাকসুর ভিপি হিসেবে। ধানের শীষ প্রতীকে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচন করবেন তিনি। সারা জীবন আওয়ামী লীগের গুণগান করলেও ক্ষমতার লোভের কাছে নৈতিকতার বিসর্জন দিয়ে শেষ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের কাতারে দাঁড়িয়েছেন সুলতান মনসুর।

১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন মোস্তফা মহসীন মন্টু। এ ছাড়া পালন করেছেন যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। এরপর তিনি যোগ দেন ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম। ধানের শীষ প্রতীকে এবার ঢাকার যে কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন তিনি।

বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক পেলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ফুল দিয়ে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।

আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা ছিলেন এস এম আকরাম। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে এস এম আকরাম ১৯৯৪ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। ভূমিদস্যু ও দুর্নীতিগ্রস্ত রনি নৌকায় জায়গা না পেয়ে এমপি হওয়ার বাসনায় যুদ্ধাপরাধীদের দোসরদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।

এবার ঐক্যফ্রন্টে যাচ্ছেন আজিজুস সামাদ ডন। এমন খবর শোনা যাচ্ছে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদের ছেলে। বাবার পথ ধরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে আছেন তিনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ডন এবার দলীয় মনোনয়নে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

গণফোরামের পক্ষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে হবিগঞ্জ-১ আসনে লড়বেন রেজা কিবরিয়া। রেজা কিবরিয়ার বাবার আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী ছিলেন।

আওয়ামী লীগের মতো জনপ্রিয় দলের মনোনয়ন পেতে হলে প্রার্থীকে তুমুল জনপ্রিয়, জনবান্ধব ও কর্মমুখী হতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ দেশের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে জনসেবার জন্য রাজনীতি করে। তাই পথহারা, নীতি-আদর্শ বিহীন ব্যক্তি সংগ্রামী দলের মনোনয়ন পাবেন না এটাই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগে যাদের জায়গা হয় না তারা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হন বলেও মনে করেন রাজনীতি সচেতন নাগরিকরা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.