ব্রেকিং নিউজ :
News Tangail

সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে ১/১১’র সুরে কথা বলছেন ডা. জাফরুল্লাহ

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে বানোয়াট, মনগড়া ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য উপস্থাপন করতে সচেষ্ট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণস্বাস্থ্য ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ। এর আগে তিনি নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, বিজিবিএম, পিজিবিএম, বিজিবিএমএস, পিএসসি, জি’র বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছিলেন। এবার সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাক্কালে তিনি সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর প্রীতম-জামান টাওয়ারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয় সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী ঐক্যফ্রন্টকে সাহায্য না করলে জাতিসংঘ মিশনে সেনা সদস্য প্রেরণ বন্ধ হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডা. জাফরুল্লাহ যে সুরে কথা বলছেন তাতে ১/১১’র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।

সমন্বয় সভায় দেয়া বক্তব্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সেনাবাহিনীর উদ্দেশে বলেন, ‘মনে রাইখেন আপনারা, নির্বাচন যদি সুষ্ঠুভাবে না হয়, আপনাদের বিদেশ যাওয়া বন্ধ হইয়া যাইবে। এই যে একেকজন সাত/আট লাখ টাকা, ২০ লাখ টাকা আনেন, সেই সুযোগ-সুবিধা চলে যাবে। একজন সেনা সদস্যও আর স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারবেন না। ক্যান্টনমেন্ট থেকে স্বাভাবিকভাবে বাহিরে বের হতে পারবেন না।’

এদিকে, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির আগেও একইভাবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সেনাবাহিনীকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিলো। সেসময় দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি, নির্বাচন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের আল্টিমেটাম এবং বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের অবস্থান, বিশেষ করে নির্বাচনের ব্যাপারে জাতিসংঘের দৃঢ় অবস্থানের কথা চাউর করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে বিরোধী দলগুলোর কড়া রাজনৈতিক প্রতিবাদের মুখে ২০০৬ সালের শেষের দিকে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়ে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেন। এ নির্বাচন সাজানো অভিযোগ তুলে প্রায় সবগুলো বিরোধী দলনির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলে দৃশ্যত দেশি-বিদেশি চাপের মুখে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেন ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। এরপরই সরকার বিলুপ্ত করে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমদকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেন।

এমন বাস্তবতায় ডা. জাফরুল্লাহ সেনাবাহিনীকে নিয়ে এমন বিরোধপূর্ণ বক্তব্যকে সন্দেহের চোখে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ডা. জাফরুল্লাহ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে তৎপর হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ আরাফাত রহমান বলেন, সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে এর আগেও ডা. জাফরুল্লাহ সেনাপ্রধানকে বিতর্কিত করতে চেয়েছিলেন। সেবার নিজের ভুল তথ্যের জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন। এবার যখন তিনি পুনরায় সেনাবাহিনীকে নিজেদের পক্ষে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যথায় জাতিসংঘ মিশন বন্ধ হওয়ার হুমকি দিয়েছেন- তখন তার উদ্দেশ সম্পর্কে কোন সংশয় থাকতে পারে না। তিনি যে, স্বার্থ হাসিলের জন্যই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাতে প্রস্তুত তা প্রকাশ্যে আসছে। ১/১১’র মতো দেশের পরিস্থিতি ও অবস্থানগত ভীতি দেখিয়ে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে দেশ তুলে দেয়ার মতো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে তৎপর হয়েছেন। বিষয়টি ভীষণ উদ্বেগের। বোঝা যাচ্ছে, বিএনপি-জামায়াতের দেখানো পথের উত্তরসূরী হিসেবে কাজ করছেন ডা. জাফরুল্লাহ। সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে হুমকিমূলক বক্তব্য দেয়ার জন্য এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.