ব্রেকিং নিউজ

গ্রামের গৃহিণীদের মধ্যে আগের মত পিঠা বানানোর উৎসব নেই

সজল আহমেদ, একসময় পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়- মহল্লায় ছোট- বড় সকলেই পিঠা খাওয়ার আনন্দে মেতে উঠত। কর্মচাঞ্চল্য এই ব্যস্তময় জীবনের গর্ভে তা এখন হারিয়ে যাচ্ছে। শীতকাল আসলে গ্রাম-গঞ্জে, ফুট-পথ হতে শুরু করে প্রতিটি ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর ব্যস্ততা বেড়ে যেত। বাহারি রকমের পিঠা তৈরির উৎসবে আত্মহারা হত সর্বস্তরের মানুষ।

শীতের এই সময়ে বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতি ঘরেই হরেক রকমের পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গৃহিণীরা। কিন্তু কালের বিবর্তনে ও কর্মচাঞ্চল্যের কারণে এ এলাকার মানুষ এখন বাড়িতে পিঠা তৈরির সেই উৎসবমুখর আমেজ হারিয়েছেন। কালের বিবর্তনে সাথে সাথে আমাদের গ্রামীন সংস্কৃতি গুলো হারিয়ে যাচ্ছে।

সাহেরা বেগম নামের একজন গৃহিণী বলেন, শীত আসলে আগে কত ধরণের পিঠা বানাতাম। সারা রাত বসে ঢেঁকিতে চাল গুড়া করতাম এবং ভোরে উঠে পিঠা বানাতাম সবাই মিলে। ছেলে মেয়েরা আনন্দের সাথে পিঠা খেয়ে স্কুলে চলে যেত।

আব্দুল কাদের নামের কৃষক জানান,  আগের সেই পিঠা বানানোর আমেজ হারিয়ে গেছে অনেক দিন আগে। এখন সবাই পিঠা বাজার থেকে কিনে এনে খায়। এতে কোন আনন্দ- উৎসাস থাকে না। গ্রামের গৃহিণীদের মধ্যে আগের মত পিঠা বানানোর উৎসব নেই। হরেক রকমের পিঠ আমাদের নতুন প্রজন্ম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই পিঠা বানাননো টা এখন স্মৃতি হয়ে গেছে।

গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় পিঠাগুলো সম্পর্কে জেনে নিন……….

ভাঁপা পিঠা– শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠেই গরম গরম ভাঁপা পিঠা খাওয়ার স্মৃতি কম বেশি সবারই আছে। ভাঁপে তৈরি করা হয় বলে একে ভাঁপা পিঠা বলা হয়। চালের গুঁড়া, আখের গুঁড় এবং নারিকেল দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু ভাঁপা পিঠা। শীতকালে বর্তমানে ঢাকায় রাস্তার পাশেও ভাঁপা পিঠা বিক্রি করতে দেখা যায়।

দুধ চিতই– শীতের মৌসুমে এই পিঠা প্রায় প্রতি বাড়িতেই তৈরি করা হয়। সাধারণত চালের গুঁড়া এবং পানি মিশিয়ে মাটির খোলায় বা পাত্রে চিতই পিঠা ভাজা হয়। যদিও চিতই পিঠা নানাভাবে খাওয়া যায়। নানা ধরনের ভর্তা ছাড়াও চিতই পিঠা দুধ এবং খেজুরের রস একসাথে জ্বাল দিয়ে খাওয়া হয়। এভাবেই চিতই পিঠার আসল মজা পাওয়া যায়। রসের মধ্যে পিঠা সারারাত ভিজিয়ে সকালে উঠে রসে টয়টম্বুর দুধ চিতই পিঠার মজাই আলাদা।

পোয়া পিঠা পোয়া– পিঠা শীতকাল ছাড়াও সারা বছর অনেকেই তৈরি করে থাকেন। নিয়মত অন্য খাবারের মতো এই পিঠা তৈরি সহজ বলে অনেকেই খেয়ে থাকেন। পোয়া পিঠার আরেক নাম তেলের পিঠা। চালের গুঁড়া, চিনি অথবা খেজুরের রস, ডিম, গুঁড়া দুধ, লবণ এবং তেল দিয়ে পোয়া পিঠা তৈরি করা হয়। প্রথমে সবকিছু একসাথে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ করে গরম তেলে ভাজা হয়।

পাটিসাপটা পিঠা– পাটিসাপটা পিঠা খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু একটি পিঠা। তবে বিভিন্ন ধরনের পাটিসাপটা পিঠা হয়ে থাকে। জাফরানি পাটিসাপটা, ক্ষীর পাটিসাপটা, মাওয়া পাটিসাপটা, খোয়া ক্ষীর পাটিসাপটা ইত্যাদি যার নামও অনেকে শোনেনি। পাটিসাপটা পিঠা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় ময়দা, সুজি, চালের গুঁড়া, চিনি, দুধ, কোড়ানো নারকেল, ক্ষীর, মাওয়া, ঘি, লবণ এবং তেল।

পুলি পিঠা– আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের পুলি পিঠা তৈরি করা হয়। নারিকেলের পুলি পিঠা, ভাপা পুলি পিঠা, দুধ পুলি, ঝাল পুলি পিঠা এবং ক্ষীর পুলি পিঠা। সাধারণত সব মৌসুমেই পুলি পিঠা তৈরি করা হয়।

ফুলঝুড়ি পিঠা– এই পিঠা মচমচে এবং খেতে বেশ সুস্বাদু। ফুলঝুড়ি পিঠা তৈরি খুব সহজ হলেও, সবাই এই পিঠা তৈরি করতে পারে না। ময়দা, ডিম, পানি, চিনি, ফুড কালার এবং তেলের সাহায্যে ফুলঝুড়ি পিঠা তৈরি করা হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.