বাসাইলে ‘ঠিকানা’র উদ্যোগে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কলিয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত সামাজিক সহায়ক সংস্থা ‘ঠিকানা’র উদ্যোগে আবুল খায়ের স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা ২০১৮ এর বৃত্তি প্রাপ্ত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ জানুয়ারি) বাসাইল উপজেলার কলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বৃত্তি প্রাপ্তদের পুরস্কার ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। শিক্ষা ও উৎসাহমূলক এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সবুর খান। আবুল খায়ের স্মৃতি ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- টাঙ্গাইলের সরকারি এম.এম আলী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হিমাংশু কুমার আচার্য্য, কুমুদিনী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আলীম আল রাজী, কল্যাণপুর নুরানা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মীর রুবেল হোসাইন প্রমুখ। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঠিকানার শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ড. জুলহাস আলী মিয়া। এসময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যত্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলার নথখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাহমিনা খোশনবীশ।
অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে স্বাগত বক্তব্যে ‘ঠিকানা’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তোলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী মাছুদুজ্জামান রোমেল। তিনি বলেন- আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছে অনেক নমস্য ব্যক্তি, যাদের ঋণ শোধ করবার সামর্থ্য আমাদের নেই। ধীরে ধীরে আমরা তাদের স্মৃতি হারিয়ে যেতে বসেছি। আজকের এইদিনে আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাওয়া যে সকল কৃর্তিমান পুরুষ এখনো স্মৃতির দরজায় কড়া নাড়ে তাদের মধ্যে মরহুম আবুল খায়ের অন্যতম। যার উদ্দেশ্যেই আজকের এ অনুষ্ঠান। শিক্ষানুরাগী আবুল খায়ের জীবনের মূল্যবান সময়গুলো কলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষাদানে ব্যয় করেন। চিরকুমার এ শিক্ষকের কাছে শিক্ষাদানই ছিল একমাত্র ধ্যান। তার স্মৃতি ধরে রাখতেই ‘ঠিকানার’ অন্যতম শিক্ষা প্রতিযোগিতামূলক প্রয়াস আবুল খায়ের স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা। এ পরীক্ষার মাধ্যমে এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগি মনোভাব গড়ে তোলে, প্রতিযোগিতার জগতে সর্বক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষভাবে মেলে ধরার যোগ্য করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি ‘ঠিকানার’র কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, ২০১৭ সালে সামাজিক সহায়ক সংস্থা ‘ঠিকানা’র জন্ম হয়। ‘ঠিকানা’র মূল প্রতিপাদ্য মানুষের জন্যই মানুষ। জন্মের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সেবা সহায়তা করা, অসচ্ছল পেশাজীবি, বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলাদের আত্মনির্ভশীল করা ও আর্থিক উন্নয়নে সহায়তা প্রদান, অসহায় বৃদ্ধ/বৃদ্ধাদের বিভিন্ন বিষয়ে পাশে থেকে সহায়তা, পিছিয়ে পড়া ও অসচ্ছল ঝড়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে গড়ে তোলা ও তাদের মধ্যে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে আসছে।
উল্লেখ্য, উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের ১৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ১৪৩জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে প্রতি শ্রেণীতে ৫জন করে মোট ১৫জনকে বিভিন্ন গ্রেডে এককালিন অর্থ বৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.