ব্রেকিং নিউজ

সখীপুরে মামলাবাজ মা মেয়ে ও বাবা ২৮ মামলায় অতিষ্ট গ্রামবাসী

সখীপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনে মহিলা ইউপি সদস্য কহিনুর, মা জবেদা, বাবা ডাকাত কাশেমের বিরোদ্ধে বিভিন্ন হয়রানী মামলায় অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সখীপুর থানা ও স্থানীয় মিথ্যা মামলার অভিযুক্তদের কাছ থেকে জানাযায় এ পর্যন্ত মেয়ে, মা বাবা মিলে আত্মীয় এলাকাবাসীর বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তির নামে পরপর ২৮টিরও বেশী মিথ্যা মামলায় দায়ের করা হয়েছে । বিভিন্ন ধরনের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ মামলাগুলো দায়ের করেছে ওই পরিবার। এক কথায় এ এলাকায় মামলাবাজ পরিবার হিসেবে পরিচিত হয়ে পড়েছে ওই পরিবার।
সোমবার সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে মামলাবাজ কাশেম ও তার স্ত্রী জাবেদা এবং মেয়ে সংরক্ষিত ইউপি সদস্য কহিনুর এর অতিষ্টে এলাকাবাসীর আবেগ আপ্লুত কথা বলতে শোনা যায়।

এ বিষয়ে উপজেলার প্রতিমা বংকী গ্রামের সহিদুল ইসলাম ভারক্লান্ত মন নিয়ে বলেন- সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাশেম ও তার মেয়ে কহিনুর আমার পরিবারের নামে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, যৌতুক সহ নানা অভিযোগে পরপর ১২টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। যার একটিও আদালতে সত্য প্রামানিত হয়নি।

একই গ্রামের হায়েত আলী বলেন, আমার ধারকৃত টাকা চাইতে গেলে কাশেম নিজের শরীর নিজে কেটে আমার নামে মিথ্যা নির্যাতন মামলা দায়ের করে। এ মামলাটিও আদালতে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। একই গ্রামের রাঙ্গু মিয়া বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কাশেম আমার নামে মাছ মারার দোয়ারী চুরের মিথ্যা মামলা দায়ের করছিলো।
এছাড়াও মাস্টার পাড়া আবদুস ছবুর মাস্টার বলেন, কাশেম একজন মিথ্যাবাদী। সাধারণ মানুষকে ফাঁসানোর জন্য বিভিন্ন সময় সে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে গ্রামের সম্মানিত ব্যক্তিদের নামে মামলা করে থাকে। তার স্ত্রীকে দিয়ে আমার নামে সে মিথ্যা মামলা দায়ের করছিলো। আল্লাহ মহান সত্যের জয় সব সময় তাই তার মিথ্যা মামলায় আমার কিছু হয়নি।

ইউপি সদস্য আলতাব হোসেন বলেন, মামলাবাজ কাশেম তার স্ত্রী জবেদা ও মেয়ে কহিনুর বেশ কয়েকবার গ্রামবাসীর সম্মুখে মিথ্যা মামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কান ধরে উঠ বসও করছিলো । কিন্তু চোর না শুনে ধর্মের কাহিনী। কিছু দিন পর থেকেই আবারও শুরু হয় এলাকাবাসীর নানা মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া।

স্থানীয় ৭ নং দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, কাশেম ও তার পরিবার এ ইউনিয়নের একটি মামলাবাজ পরিবার তা ইউনিয়নবাসীর সবাই জানে, কিছু দিন আগে তার মেয়ে পরিষদের চেয়ারম্যান ও আমাদের দুই ইউপি সদস্য নামেও মিথ্যা মামলা করেছেন। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।
প্রসঙ্গত: গত ১৪ জানুয়ারি এলাকায় সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্বের ন্যায় ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে আহতের নাটক সাজিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে সখীপুর থানায় দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সখীপুর প্রতিনিধি ,বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের নিয়মিত কণ্ঠশিল্পি জুলহাস গায়েন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে সে নির্যাতন করার অভিযোগ করে ।

সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসাদ মিয়া বলেন- এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.