ব্রেকিং নিউজ
News Tangail

মির্জাপুরে আলোর ফেরিওয়ালা! ৫ মিনিটেই বিদ্যুৎ সংযোগ

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক : শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর এই শ্লোগানকে সত্যিকার অথের্ই বাস্তবায়ন করতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ফেরি করে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেন পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ।জামানত জমাদানের মাত্র ৫ মিনিটেই পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীগনা গ্রাহকের বাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের মিটার ও তার সংযোগ দিয়ে ঘরে বাতি জ্বেলে দিচ্ছেন।

গ্রাহকদের এখন আর বিদ্যুৎ অফিসে যেতে হচ্ছে না।বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীগনই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঝামেলা মুক্ত ভাবে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে যাচ্ছেন।বিদ্যুৎ বিভাগের এমন উদ্যোগ্যটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।সেই সঙ্গে তাদের এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সাধারন মানুষ।আজ মঙ্গলবার উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগন ভ্যানগাড়িতে ফেরি করে গ্রাহকদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেন।তাদের এই প্রকল্পের নাম দিয়েছেন আলোর ফেরিওয়ালা।

টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিস সুত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা ও মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, তরফপুর, আজগানা ও বাঁশতৈল এই ১৪ ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে আলোর ফেরিওয়ালা ভ্যানগাড়িতে ড্রফ তার ও মিটার নিয়ে গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।

অফিস সুত্র জানায়, মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিসের আওতায় মির্জাপুর উপজেলায় ৯৫ ভাগ গ্রাহক বিদ্যুুৎ সংযোগ পেয়েছেন।দুটি জোনাল অফিসের মাধ্যমে এ পর্যন্ত গ্রাহক সংখ্যা এক লাখ ২৪ হাজার।যে ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে আগামী (৫-৬) মাসের মধ্যে মির্জাপুর উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুৎ ঘোষনা করা হবে।

টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ গোড়াই জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার(ডিজিএম) মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং এজিএম (ওএনএন) মো. মঞ্জুরুল আলম জানান, এক সময় গ্রাহকদের বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নানা ভাবে হয়রানীর শিকার হতে হত।এখন সে চিত্র একবারেই পাল্টে গেছে।

গ্রাহকদের বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে যাতে হয়রানীর শিকার হতে না হয় সে জন্য অফিসগুলো নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে।গ্রাহকদের জন্য বসানো হয়েছে হেল্প ডেক্স কর্নার।গ্রাহকরা বিভিন্ন আবেদন, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, জামানত জমা ও উত্তোলনসহ যে কোন সেবা এই হেল্প ডেক্স কর্নারের মাধ্যমে বিনামুল্যে সেবা গ্রহন করতে পারছেন।

সর্বশেষ পল্লী বিদ্যুৎ মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিস গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অতি সহজেই বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন।আলোর ফেরিওয়ালার ভ্যানগাড়িতে মিটার ও ড্রফ তার নিয়ে সংযোগ দিয়ে আসছেন।এই সেবার আওতায় একজন গ্রহকের বাড়িতে ড্রফ তারের দুরত্ব ১৩০ ফুট, দুই কপি ছবি, গ্রাউন্ডিং রড ও মিটার বোর্ড দিয়ে ঘর ওয়ারিং, ভ্যাটসহ আবেদন ফি ১১৫ টাকা, নিরাপত্তা জামাতন ফি ৪০০শ টাকা এবং সদস্য ফি ৫০ টাকা জমাদানের ৫ মিনিটে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে যাচ্ছেন গোড়াই নাজিরপাড়ার বাসিন্দা ও ছাত্রনেতা খন্দকার নাইম হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ পাওয়া এখন হাতের নাগালে।গ্রাহককে এখন বিদ্যুুতের জন্য দিনের পর দিন অফিসে গিয়ে ঘুরতে হয় না।বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন গ্রাহকদের খুঁজে বের করে ঝামেলামুক্ত ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেন।তিনি ৫ মিনিটেই তার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুুৎ মির্জাপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. মোর্শেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মো. একাব্বর হোসেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু ও পৌরসভার মেয়র মো. সাহাদত হোসেন সুমনের আন্তরিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও প্রচেষ্টায় মির্জাপুরে বিভিন্ন গ্রামে গ্রাহকদের শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে।

এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মো. একাব্বর হোসেন এমপি, সভাপতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মির্জাপুরে প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া এটা আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুত ছিল।সেই লক্ষ নিয়েই কাজ করা হচ্ছে।আগামী ৫-৬ মাসের মধ্যে মির্জাপুরকে শতভাগ বিদ্যুৎ ঘোষনা করা হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.