ব্রেকিং নিউজ

ডিসেম্বরেই খেলাপি ঋণ কমে আসবে, এই মেয়াদেই নামবে শূন্যের কোটায়

বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার সূক্ষ পরিকল্পনা করেছে বলে কিছুদিন আগে জানিয়েছিলেন নতুন সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সেসময় তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন ‘আগামীতে দেশের ব্যাংক খাতে আর এক টাকাও খেলাপি ঋণ বাড়বে না।’ নবনির্বাচিত অর্থমন্ত্রী কথাসুরে সুর মিলিয়ে দেশের ব্যাংকিং জগতের অভিভাবক বাংলাদেশে ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরও আশ্বাস দিয়েছেন যে, চলতি বছরের ডিসেম্বর শেষের দিকে খেলাপির পরিমাণ কমে আসবে।

আমাদের দেশের মোট ঋণের বিপরীতে যে খেলাপি তা অবশ্যই আশঙ্কাজনক বলে মনে করছেন তিনি। এক বক্তব্যে তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১ দশমিক ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে বছর শেষে এই খেলাপি কমে আসবে।

ঠিক কোন কোন কারণে গ্রাহকরা খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে সে বিষয়ে ব্যাংক সংশ্লিষদেরই গবেষণা করে বের করতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্তা। তিনি জানান, ‘কোন ব্যবসা শুরু করার পর উৎপাদনে যেতে যদি টাকার প্রয়োজন হয় তবে তাদের সহোযোগিতা করলে গ্রহীতার গুণগত মানটাও বিবেচনায় রাখা যাবে।’

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নীতিমালার আলোকে ব্যাংকগুলো এখন থেকে প্রত্যেক ঋণগ্রহীতার একটি রেটিং করবে এবং এ-সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার তৈরি করবে। এ রেটিংয়ে পরিমাণ ও গুণগত উভয় ধরনের সক্ষমতার মূল্যায়ন থাকবে। যেখানে লিখিত আকারে জমা খরচের বিস্তৃত বিবরণ বা ব্যালেন্স শিট প্রস্তুতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যক্তিগত ব্যাংকগুলো যৌথভাবে প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে পারে। নীতিমালা অনুযায়ী মূল্যায়নের ভিত্তিতে গ্রাহককে চার শ্রেণিতে ভাগ করবে ব্যাংকগুলো। কোনো গ্রাহক ‘চমৎকার’ (এক্সিলেন্ট) বা ‘ভালো’ (গুড) রেটিং পেলে ব্যাংক তাকে অর্থায়ন করতে পারবে। ‘প্রান্তিক’ (মার্জিনাল) রেটিংধারী গ্রাহককে পুরোনো ঋণ নবায়ন বা নতুন করে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

‘অগ্রহণযোগ্য’ রেটিংধারীকে কোনো পরিস্থিতিতেই নতুন ঋণ না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। যেখানে খেলাপি ঋণের সঙ্গে অবলোপন করা এ মন্দ ঋণ যুক্ত করলে প্রকৃত খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণের পরিমাণে ব্যাংকিং সেক্টরগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠায় থাকা ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে মন্ত্রীসভার দায়িত্বের শুরুতে এক বক্তব্যে ভবিষ্যত খেলাপি ঋণের পরিমাণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী।

 

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে এক বৈঠক করেন তিনি। সেদিনের বিষয়ে নতুন অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘ব্যাংকিং খাত নিয়ে ব্যাংকের মালিকদের সাথে আলোচনা করেছি। তাদের কাছ থেকে ব্যাংকিং খাতের যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো ভেরিফাই করবো, এভালুয়েট করবো, মূল্যায়ন করবো। এ জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে। এই মূল্যায়ন শেষ হলে আমরা একটি ব্যবস্থায় যাবো।’

আমি বলেছি, আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়তে পারবে না। বলেছি, আপনারা কিভাবে বন্ধ করবেন, কিভাবে টেককেয়ার করবেন, কিভাবে ম্যানেজ করবেন; আপনাদের ব্যাপার। তারা এই ব্যাপারে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। তাই বলেছি, আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ বাড়বে না ইনশাল্লাহ।’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.