প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে মানসম্মত নেটওয়ার্কের বিকল্প দেখছে না সরকার

উন্নত দেশ গড়তে বর্তমান সরকার গত টানা দশ বছর ধরে বিভিন্ন প্রযুক্তগত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ২০২১ থেকে ২৩ সালের মধ্যে ফাইভ জি লঞ্চ করবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে এখনই ঘোষণা এসেছে। তবে কলড্রপ, ইন্টারনেটের কচ্ছপগতি, কর্পোরেট সাকুল্যে সুবিধা কম প্রভৃতি বিষয়ে মোবাইল ফোন অপরেটরদের অনেকটা গাফিলতির কারণে ইন্টারনেট দুনিয়াতে পদচারণায় বাংলাদেশ অনেকটাই ধীরগতিতে এগুচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে হলে সর্বপ্রথম ইন্টারনেট দুনিয়া দখলে নিতে হবে।

যুক্তরাষ্টের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা থেকে শুরু করে উন্নত বিশ্বের নানা দেশের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই নেটওয়ার্ক জগতকে হাতের মুঠোয় নিয়ে নিয়েছে। যার ফলে সারাবিশ্বে তারা নিজেদের রাজত্ব কায়েম করতে পারছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা।

তবে বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তিতে অনেক মেধাবী থাকলেও দেশের নেট জগতের মোবাইল বা সংশ্লিষ্ট অপারেটরগুলো জনগণের জন্য মানসম্মত সেবা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত করতে না পারায় বেজায় চটেছে টানা তিনবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার। আর নেটওয়ার্ক কোম্পানীগুলোর ওপর সেই ক্ষোভ নিংড়ে দেন নতুন সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

বুধবারের এক অনুষ্ঠানে জনগণকে কোয়ালিটি সেবা দিতে হবে এমন কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা কোয়ালিটি অব সার্ভিস গাইডলাইন দিয়েছি। কোয়ালিটির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কোয়ালিটি সার্ভিস না দিলে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কোনো অপারেটরের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘এটি মনে হতে পারে যে, কেউ কেউ বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করে ফেলেছে। কিন্তু বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করে যদি খারাপ সার্ভিস দেওয়া শুরু করে, তার চাইতে ছোট নেটওয়ার্ক তৈরি করে ভালো সার্ভিস দেওয়াটা ভালো।’

যেহেতু সরকার এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে গ্রামকে শহরের পরিণত করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাই তা পূরণে দায়িত্বের প্রথমেই ডিজিটাল রাষ্ট্র নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের শহর কিংবা গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার আশা প্রকাশ করেন মোস্তাফা জব্বার। তিনি জানিয়েছেন, ‘কানেক্টিভিটি আমাদের এখনকার সময় ও সভ্যতার জন্য বড় ভিত্তি। আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষকে কানেক্টেড করতে চাই।’

সবাইকে ডিজিটালি দক্ষ করে গড়ে তোলা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন তিনি। ‘আমাদের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শিশু থেকে বয়স্ক সবাইকে ডিজিটাল যুগের উপযোগী করা। আমরা বিশ্বাস করি শিশুরা প্রযুক্তির সকল শিক্ষা অর্জন করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখার প্রস্তুতি নিবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.