News Tangail

সাইবার টহল জোরদার করেছে সরকার, শনাক্ত হচ্ছে অপরাধীরা

নিউজ ডেস্ক: একের পর এক সাইবার অপরাধের বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখছে সরকার। এতে সাইবার টহল জোরদার হয়েছে এবং শনাক্ত হচ্ছে ডিজিটাল অপরাধীরা। সম্প্রতি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের দক্ষতায় সুফল পেতে শুরু করেছে ভুক্তভোগীরা।

জানা যায়, ঢাকার থাই দূতাবাসের ওয়েবপেজ হ্যাক করে টেলিফোন নম্বর বদলিয়ে নিজেদের নম্বর বসিয়ে ফাঁদ পাতে সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র। তারা থাইল্যান্ডে ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে শুরু করে। তবে থাই দূতাবাসের এক কর্মকর্তার অভিযোগ পেয়ে চক্রের অন্যতম সদস্য মহিউদ্দিন খান সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট, র‌্যাব, সিআইডি সূত্র বলছে, গত ছয় মাসে সাইবার অপরাধের কয়েক শ অভিযোগ তারা পেয়েছে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীসহ সারা দেশে পুলিশের অন্তত ১০০টি সাইবার ইউনিট গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে পাঁচজন করে সদস্য রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের একজন এআইজির তত্ত্বাবধানে এই টিম চলছে। এ ছাড়া পুলিশ প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সাইবার টহল দিচ্ছে। টহল ইউনিটগুলোতে অপরাধী শনাক্তকরণে বিভিন্ন ধরনের উন্নত মানের সফটওয়্যার যুক্ত করা হয়েছে।

র‌্যাবের সাইবার ইউনিট সূত্র জানায়, গত ২০ দিনে র‌্যাবের আটটি ইউনিট সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক প্রতারকচক্রের ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সাইবার অপরাধীদের ওপর র‌্যাবের বাড়তি নজরদারি রয়েছে। এরইমধ্যে সাইবার অপরাধে জড়িত অনেক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনেছে র‌্যাব।

থাই দূতাবাসের সাইট হ্যাকের মামলা তদন্ত করতে গিয়ে সাইবার অপরাধের নানা অভিজ্ঞতা লাভের কথা জানান সাইবার ক্রাইম বিভাগের এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এই চক্রের ফাঁদ থেকে শুধু দূতাবাস নয়—রাজনীতিবিদ, পুলিশ কর্মকর্তাদের ওয়েবপেজও তারা হ্যাক করছে। সম্প্রতি পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ওয়েবপেজ হ্যাক করে প্রতারণার তথ্য পাওয়ার পর এসব ঘটনায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়।

পুলিশ জানায়, আসাদুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি মিরপুর থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন, তিনি থাই দূতাবাসের ওয়েবপেজের নম্বর থেকে ফোন পেয়ে বিশ্বাস করেছিলেন সুমন দূতাবাসেরই লোক। তাই ভিসার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দেন। তদন্ত করতে গিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি ও ক্রাইম বিভাগ জানতে পারে, সাইবার অপরাধ জগতে মহিউদ্দিন খান সুমনের ব্যাপক বিচরণ। ধরা পড়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সুমন সাইবার ইউনিটকে জানায়, তার অনেক সহযোগীর মধ্যে মিলন হোসেন হাওলাদার ও সজীবসহ আরো অন্তত ২০ জন সদস্য রয়েছে। তারা বিভিন্ন দূতাবাসের ওয়েবপেজে ঢুকে একইরকম প্রতারণা করে থাকে। অন্য সদস্যরাও শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, সাইবার অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত কয়েক মাসে অর্ধশতাধিক সাইবার অপরাধে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। দেশ-বিদেশে থাকা সাইবার অপরাধীদের ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, সাইবার অপরাধকে বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একাধিক চক্র ফেসবুক অনলাইনে নানা মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট সতর্ক আছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিরোধী কোন সংগঠনের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কোন কিছু ভাইরাল হওয়ার অভিযোগ পেলেই তদন্তের পর অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। আবার সাইবার স্পেসে দৃষ্টিকটু কোন কিছু দেখলেই ভুক্তভোগীরা যাতে পুলিশের নজরে আনতে পারে সে জন্য জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে। যেসব পেজ ও আইডি থেকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে সেগুলোর ব্যাপারে রিপোর্ট করে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.