ব্রেকিং নিউজ

দুর্নীতি দমনে আশার আলো দেখাচ্ছে দুদক

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি, এটি আমাদের একটি জাতীয় ব্যাধি। দুর্নীতি সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং সুষম রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ব্যাহত করে। জাতীয় এই সমস্যা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে দুদককে একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। বর্তমান সময়ে এ প্রতিষ্ঠানের ফলে ক্ষমতাবান দুর্নীতিবাজরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

বর্তমান সময়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক কঠোরভাবে কাজ শুরু করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ রোববার হঠাৎ করেই চট্টগ্রামের তিনটি বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি সেখানে দেখেন আট শিক্ষকের সাতজনই কর্মস্থলে অনুপস্থিত। আরেক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত দুই শিক্ষক। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে আর এ সকল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে দুদক।’
বান্দরবানের লামায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ১২ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল নীলফামারীর আনসার-ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগের তদন্ত করছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ সেধেছিলেন আশিকুর। এই অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

নীলফামারীর আনসার-ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট হিসেবে কর্মরত মো. আশিকুর রহমান। বান্দরবানের লামায় কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রায় ১২ লাখ টাকার সংস্কার কাজের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগের তদন্ত শুরু করে দুদক। এরপর আগ্রাবাদ কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জাফর সিদ্দিক শিবলীকে এক লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেন আশিকুর রহমান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হলে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ঘুষের এক লাখ টাকাসহ আশিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে আসামির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ এবং অনুসন্ধানের তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক এ কে এম ফজলুল হককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ফজলুল হক বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্পদের অনুসন্ধানে দীর্ঘ ১৩ মাস সময় নেন। গত ১৪ জানুয়ারি দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় বিষয়টি নিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

সরকার বর্তমানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনও সরকারের এই নীতির আলোকে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। যা সাধারণ জনগণের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। শুধু দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব নয়, দুর্নীতি প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। সব পেশাজীবী, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টি করতে চায় দুদক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.