গেইলের বিপক্ষে অন্যরকম ‘হ্যাটট্রিক’ মেহেদীর

তার দিনে তাকে আটকে রাখা খুব কঠিন। ভাল আর খারাপ বল নেই। গেইলের ব্যাট যেদিন কথা বলে, সেদিন খারাপ-ভালোর বাছ বিচার থাকে না। অবলীলায় সে সব বলকে সীমানার ওপারে পাঠান ক্যারিবীয় ওপেনার। তাই নিজেকে খুঁজে পাওয়া ক্রিস্টোফার হেনরি গেইল যেনি উত্তাল উইলোবাজিতে মত্ত থাকেন, সেদিন তাকে বল করতে গিয়ে বিশ্বের সব বাঘা বাঘা ফাস্টবোলারেরও বুক কাঁপে। তার উত্তাল উইলোবাজির সামনে খড় কুটোর মতো উড়ে যায় বিশ্বসেরা বোলারের ভাল ডেলিভারিও।

তবু দিন শেষে গেইলও মানুষ। অতিমানব নন। কিছু সীমাবদ্ধতা তারও আছে। ঠিক দুর্বলতা হয়তো নেই। তবে একজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে অফস্পিনের বিপক্ষে একটু আধটু অস্বস্তিতে ভোগেন। অফস্পিনের বিপক্ষে অনেক সময় বলের পিছনে শরীর ও ডান পা না এনে আকাশে তুলে মারার প্রবণতা আছে তার। এভাবে খেলতে গিয়ে বেশ কবার সীমানার আশপাশে ক্যাচ আউট হবার রেকর্ডও আছে। তাই গেইলকে আটকাতে বেশির ভাগ অধিনায়কই অফস্পিনারকে ব্যবহার করেন। এবং তাকে সামনে টেনে এনে তুলে মারতে প্রলুব্ধ করেন। ওই থেরাপি কাজেও দেয় । সেই ফর্মূলা অনুসরণ করে বাংলাদেশের মাটিতে গেইল বধে প্রথম দাওয়াই হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিলেন অফস্পিনার সোহাগ গাজী।

২০১২ সালে বাংলাদেশ সফরে টেস্ট আর ওয়ানডে মিলে গেইলকে বার তিনেক আউট করে সাড়া জাগিয়েছিলেন এই অফস্পিনার। এরপর বিপিএলেও গেইল ঝড় থামাতে প্রতিপক্ষ অধিনায়করা অফস্পিনার ব্যবহার করাতেই তুলনামূলক নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর দাওয়াই মনে করেন। আগের বার বিপিএলে এই গেইলের ব্যাটিং তান্ডব থামাতে কুমিল্লা কোচ সালাউদ্দীন বেছে নিয়েছিলেন তরুণ অফস্পিনার মেহেদি হাসানকে। বলার অপেক্ষা রাখে না গতবার বিপিএলে কুমিল্লার বিপক্ষে দুই বারের একবারও সুবিধা করতে পারেননি গেইল।

দুবারই মেহেদি হাসানের বলেই আউট হয়েছিলেন। রাউন্ড রবিন লিগের শেষ দেখায় উইকেটে এসে অফস্পিনার মেহেদী হাসানের বলে শূন্য রানে (প্রথম বলে) বোল্ড হয়ে গিয়েছিলেন গেইল। আর কোয়ালিফায়ার দুইয়ে এই মেহেদীর বিপক্ষে ১০ বলে ৩ রান করে শোয়েব মালিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছিলেন। আজ আবার এই অফস্পিনারের বলেই আউট বিধ্বংসী এই উইলোবাজ। আগের বার এলিমিনেটর ১ আর ফাইনালে শতরান করা গেইল আজ নিজের স্টাইল বদলে একদিক আগলে রাখার চেষ্টায় ছিলেন। অথচ এই মাঠে গতবার (২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর শেরে বাংলায়) এলিমিনেটর পর্বে খুলনার বিপক্ষে ৫১ বলে ১৪ ছক্কা, ২৪৭.০৬ স্ট্রাইকরেটে ১২৬ রানের ঝড়ো ইনিংস আছে তার।

আর গত আসরের ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটসের সাথে ফাইনালে ৬৯ বলে ১৮ ছক্কা ও ২১১.৫৯ স্ট্রাইকরেটে ১৪৬ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংসও খেলেছিলেন। কিন্তু এবার দলের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে উইকেটের চরিত্র, গতি-প্রকৃতি দেখে-বুঝে এবং ম্যাচ কন্ডিশন অনুযায়ী অনেক রয়ে সয়ে খেলার চেষ্টায় ছিলেন গেইল। কিন্তু ৪৪ বলে ৪৬ রান করার পর হঠাৎ ধৈর্য্যচ্যুতি। ইনিংসে ছয় বাউন্ডারির সাথে একটি মাত্র ছক্কা যার বলে, সেই মেহেদি হাসানকে লং অফের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে শেষ অবধি আকাশে তুলে দেয়া। এবং থিসারা পেরেরার হাতে ক্যাচ দিয়ে বিফল মনোরথ হয়ে সাজঘরে ফেরা। গেইলকে দুই বারের বিপিএলে তিন বারের মতো আউট করে নিজেকে গেইল বধের অব্যর্থ দাওয়াই হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন কুমিল্লা দৌনাচার্য্য মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের গোপন হাতিয়ার মেহেদী হাসান। সেই সঙ্গে হয়ে গেল তার অন্যরকম ‘হ্যাটট্রিক’, গেইলকে তিনবার আউট করার কীর্তি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.