ব্রেকিং নিউজ :

মুক্তির আনন্দে টাঙ্গাইলের জাহালাম ! দুদক ও দোষীদের বিচারের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি : মুক্তি অপার আনন্দ নিয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ধুবড়িয়া গ্রামের বাড়ীতে ফিরেছেন দুদুকের মামলায় বিনা অপরাধে তিন বছর হাজত খাটা নিরপরাধ জাহালাম। সুবিচার না পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন পরিবার।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামের দিনমজুর ইউসুফ আলীর ছেলে জাহালাম। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরেনো জাহালাম পাটকল শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন নরসিংদীর একটি কারখানায়। চাকুরিরত অবস্থায় সাড়ে তিন বছর আগে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মালমা করে দুদক। চেহারায় মিল থাকায় মূল অভিযুক্ত সালেকের নাম বাদ দিয়ে জাহালামের নামে চার্জশিট দিলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে ।

পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে হাইকোট তাকে বিনাঅপরাধী গণ্য করে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আদেশ দেন । হাইকোর্টের আদেশের পর রোববার রাত ১টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত হোন তিনি । মুক্ত হয়ে তার ভাই শাহনুরকে সাথে নিয়ে রাতেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সোমবার ভোররাত ৪টায় গ্রামের বাড়িতে আসেন জাহালম। জাহালমকে দেখে জড়িয়ে ধরে মা মনোয়ারা বেগম কাঁদতে থাকেন। মা মনোয়ারা ছেলের কপালে চুমু দিয়ে আক্ষেপ করে বলেন, ‘কার মাথায় বাড়ি দিছিলাম যে আমার এত বড় সর্বনাশ করলো।’ এ সময় আহাজারি করেন জাহালমের ভাইবোন ও স্বজনরাও। আহাজারি শেষে কারামুক্ত জাহালমকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে ঘরে তোলেন মা মনোয়ারা হয়।

এদিকে সকাল থেকেই জাহালমকে একনজর দেখতে ভীর করে গ্রামের মানুষ। ধুবড়িয়া গ্রাম ছাড়াও আশপাশের গ্রামের লোকজনের ঢল নামে জাহালমের বাড়িতে। জাহালম বলেন, ‘আমারে বিনা অপারাধে ৩ বছর জেল খাটাইলো দুদক। আমি আবু সালেক না,আমি জাহালম,একথা বলার পরও তারা শুনেনি । আমার জীবনে ৩টা বছর নষ্ট করে দিল তারা। জেল খানায় খুব কষ্টে দিন কাটাইছি। যারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা স্বাক্ষী দিছে ও যে দুদকের লোকেরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনছে আমি তাদের শাস্তি চায়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটাই আবেদন তাদের যেন বিচার হয়। যারা আমার মুক্তির ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। এ তিন বছরে আমার যে ক্ষতি হয়েছে আমি সেই ক্ষতি পূরণ চাই। উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু দুদকের ভুলে সালেকের বদলে বিনাদোষে তিন বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে নরসিংদীর পাটকল শ্রমিক ও টাঙ্গাইলের সন্তান জাহালমকে।

গতকাল রোববারই সোনালী ব্যাংকের ওই অর্থ জালিয়াতির মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে হাইকোর্ট তাকে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেন। কারাগারে কাগজ পৌঁছানোর পর জেলসুপার তাকে মুক্তি দেন। এর আগে সকালে ‘কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে ১ মিনিটও কারাগারে রাখার পক্ষে নয়। এই ভুল তদন্তে কোনো সিন্ডিকেট জড়িত কিনা, সিন্ডিকেট থাকলে কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা চিহ্নিত করে আদালতকে জানাতে হবে। না হলে আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে। এ রকম ভুলের দায় দুদক কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।’ বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.