ব্রেকিং নিউজ :

টাঙ্গাইলের প্রবাসী ছানোয়ার শ্রমিক থেকে হয়েছেন জাদুকর

শেখ নাসির উদ্দিন, পরিশ্রমের অন্য নামকে সাফল্য হিসাবেই দেখেন দুবাই প্রবাসী মোঃ ছানোয়ার মিয়া। কারণ কঠোর পরিশ্রম আর প্রচুর অধ্যবসায় করেছেন বলে এই প্রবাসী, শ্রমিক থেকে হয়েছেন জাদুশিল্পী। একথায় চোখ ধাধানো এক জাদুকর। তবে জীবনের এই পথ এত সহজ ছিল না। নানা চড়াই উৎরাই পাড়ি দিয়ে নিজের চেষ্টা, মেধা আর পরিশ্রম ছিল বলেই জাদু শিল্পে তার আজকের এই পরিচিতি।

ছোট বেলায় জাদুর প্রতি অন্যরকম এক ভালবাসা জন্মায় ছানোয়ারের। সপ্তম শ্রেণীতে থাকাকালীন সময়ে স্কুলে এসেছিলেন এক জাদুশিল্পী। অবাক হয়ে দেখেছেন সেই জাদু আর সে থেকেই চিন্তা ভাবনায় শুধুই জাদু । প্রথমে ভাললাগা থেকেই যে ভালবাসায় পরিণত হবে এই জাদু তা ছানোয়ারও কখনো ভাবেনি। আর জাদুর প্রতি ভালবাসা জন্ম নেবেই বা না কেন ? যে জেলায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জাদুশিল্পী পিসি সরকারের জন্ম সেই জেলারই তো সন্তান ছানোয়ার।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী গ্রামের এখলাস মিয়ার ছেলে ছানোয়ার। এসএসসি শেষ করার আগেই পরিবারের হাল ধরতে বাবার সাথে নেমে পড়েন আইসক্রীম ব্যবসায়। পড়ালেখায় বেশ অমনোযোগী ছিলেন বলেই আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া হয়’নি তার। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমান জীবিকার তাগিদে। বেশ পরিশ্রমের কাজ পান তিনি তবে জাদুকর হবার স্বপ্ন তার পেছন ছাড়ে’নি তখনো। কাজের ফাঁকে ছোট খাটু জাদুর চর্চা করে ক্যাম্পে থাকা সহকর্মীদের বিনোদন দিতেন। সজিব নামের এক সহকর্মী বেশ উৎসাহ দিলেন জাদু নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি সহযোগিতার আশ্বাস।

ছানোয়ায়ের এই প্রতিভা দেখে মুগ্ধ ওদের ভারতীয় ম্যানেজার মহারাজ প্রদীপ। নিজের ছেলের জন্মদিনের উৎসবে ছানোয়ারের জাদু প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন।আর হাতে গুজে দেন উপযুক্ত পারিশ্রমক সেই থেকেই এগিয়ে চলা৷ পরিচয় হয়েছে দেশি বিদেশী অনেক জাদুশিল্পীর সাথে শিখেছেন নতুন নতুন জাদু।

নবীন এই জাদুশিল্পী বলেন,” নিজের ভেতর প্রবল ইচ্ছা ছিল আর বন্ধু সহধর্মিনী থেকে সহকর্মী সবাই উৎসাহ দিত। জাদুশিল্পীদের সহযোগিতা ছিল বিশেষ করে এম এ মুন্নার ভাইয়ের সহযোগিতা তার ভুলার মত নয়। তিনি বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দিয়েছেন অনেক কিছু শিখিয়েছন এছাড়া এখনো অনেকের কাছে নতুন কিছু শিখেছি। জাদু সম্পর্কে ছানোয়ার আরো বলেন,” জাদু কোন কুফুরি না এটা একটা কৌশল, নির্দিষ্ট কৌশলের ছলে মানুষকে আন্দদ দেই। আমি সাদা কাগজ থেকে টাকা, ফুল থেকে কবুতর,খালি বই থেকে কবুতর, মুখে কাগজ দিয়ে ব্লেড বের করা, পেপার ছিড়ে জোড়া লাগানো ইত্যাদি দেখাই। খুব ভাল আছি জাদুর সাথে।

জাদুশিল্পী ছানোয়ার বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রয় কর্মী হিসাবে কাজ করছেন আর পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জাদুর প্রদর্শনী করেন। মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশ দূতাবাসের বার্ষিক অনুষ্ঠানে জাদু দেখিয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেন। এছাড়া পেয়েছেন বাংলাদেশ জাদুশিল্পী কল্যাণ সমিতি সদেস্য পদ।

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.