ব্রেকিং নিউজ

টাঙ্গাইলের জাহালমের ঘাড়ে এখনও ৭ মামলা

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: ২০১৪ সালে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে জাহালমকে শনাক্তসহ ৩৩টি মামলা করে দুদক। তবে সালেককে তলব করা দুদক চিঠি পৌঁছায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে জাহালমের বাড়ির ঠিকানায়।

এরপর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই মামলায় ঘোড়াশাল থেকে জাহালমকে গ্রেফতার করে দুদক। সংবাদ মাধ্যমে প্রচার, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ আর দুদকের মহাপরিচালকের (আইন) তদন্তে জাহালমের নির্দোষের বিষয়টি জানা যায়। এরই মধ্যে দীর্ঘ তিন বছর বিনা অপরাধে কারাভোগের শিকার জাহালমকে ২৬ মামলা থেকে অব্যাহতি দেন হাইকোর্ট।

রোববার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে পাটকল শ্রমিক জাহালমকে মুক্তি দেয়া হয়। তবে আরও সাতটি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায় সে বিষয়ে এখনও আদেশ দেননি আদালত।

জানা যায়, ২০১৪ সালে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক।

এরপর সালেককে তলব করে দুদকের চিঠি পৌঁছায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামের জাহালমের বাড়ির ঠিকানায়। তবে এ বিষয়ে তার পরিবার ও জাহালম কিছুই জানেন না।

তখন জাহালম নরসিংদীর ঘোড়াশালে অবস্থিত বাংলাদেশ জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলার বিষয়টি জানার পর জাহালম তখন দুদকে গিয়ে বলেন, আমি আবু সালেক নই, জাহালম। সোনালী ব্যাংকে আমার কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবু সালেকের যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি আমার নয়। এরপরও দুদকে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা সেদিন জাহালমকে ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করেন।

পরে আদালতে জাহালম দুদকের পরিচয় বিভ্রাটের বিষয়টি তুলে ধরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। কিন্তু কেউ তার কথা কানে তোলেননি। পরবর্তীতে এ ঘটনায় বিভিন্ন মিডিয়ার সহায়তা চান জাহালমের বড় ভাই শাহানুর।

মিডিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা আর পরামর্শে বিনা অপরাধে তার ভাইকে কারাভোগ করছে- এমন আবেদন নিয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনে যান শাহানুর।

ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে জাহালমের সঙ্গে কথা বলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

পরে মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে আসে, আবু সালেক আর জাহালম এক ব্যক্তি নয়। এছাড়া মামলার অন্যতম আসামি নজরুল ইসলাম ওরফে সাগরের সঙ্গেও কাশিমপুর কারাগারে কমিশনের কথা হয়।

পরে কমিশন জানতে পারেন এ ঘটনার প্রধান আবু সালেক মিরপুরের শ্যামল বাংলা আবাসন প্রকল্পের মালিক। দুদকের মহাপরিচালক (আইন) মঈদুল ইসলাম অধিকতর তদন্তে জাহালমের নির্দোষের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে বলে বক্তব্য দিয়ে তা আদালতকে জানান।

এরপর দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় ‘ভুল আসামির’ কারাগারে থাকার ব্যাখ্যা জানতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধিসহ চারজনকে তলব করেন হাইকোর্ট।

এরপর আইনি জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘ তিন বছর কারাভোগ শেষে রোববার গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান পাটকল শ্রমিক জাহালম।

এ প্রসঙ্গে জাহালমের আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত বলেন, দুদকের দায়েরকৃত ৩৩টি মামলার মধ্যে জাহালমকে ২৬ মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে আরও সাত মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায় সে বিষয়ে আদেশ দেননি আদালত। এর ফলে মুক্তিতে জাহালমের আর বাধা থাকছে না। বাকি মামলাগুলোর অভিযোগ দিলে আইনিভাবে মোকাবেলা করা হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.