সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের হালচাল

পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উষ্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত ২৫ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসায় হোয়াইট হাউজ থেকে পাঠানো এক বার্তায় আওয়ামী লীগ সরকার বিজয়ী ও শেখ হাসিনা পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় অভিনন্দন জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশ আগামীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ডেপুটি স্পোকসপারসন রবার্ট পালাডিনো এক বিবৃতিতে বলেন, নির্বাচনে ভোট দেয়া কোটি বাংলাদেশিকে অভিনন্দন জানায় যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের পর এবারের নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবেও আখ্যা দেয় দেশটি।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি শেখ হাসিনা সরকারের সাথে একযোগে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মার্কিন সরকার। নিজেদের স্বার্থের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একজন উপকারী সহযোগী হিসেবেই মনে করে ওয়াশিংটন। এছাড়া প্রতিবেশি মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্মম অভিযানের মুখে পালিয়ে আসা সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সমগ্র বিশ্বসহ মার্কিন মূলকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ অভিযান বলে মন্তব্য করেছে। এই সঙ্কটকে আঞ্চলিক সঙ্কটে পরিণত না করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

যুক্তরাষ্ট্রের থিংক ট্যাংক উড্রো উলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান বলছেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনাকে একজন উপকারী অংশীদার হিসেবে দেখছে। সন্ত্রাসের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর। তার নেতৃত্বে তাৎপর্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। দেশটির পরিস্থিতি মূলত ওয়াশিংটনের সঙ্গে খাপ খায়। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার একজন সমর্থক ও চর্চাকারী হিসেবে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।’

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশি স্পর্শকাতর ফ্যাক্টর হচ্ছে প্রতিবেশি, আঞ্চলিক শক্তি ও ওয়াশিংটনের অন্যতম মিত্র ভারত। এই দেশটি শেখ হাসিনাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের সমালোচনা করার ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটনের সুযোগ সীমিত। সাম্প্রতিক সময়ে দুইটি দেশের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় একটি ব্যাপার সহজেই অনুমেয় যে, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক অন্য উচ্চতায় রয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.