টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে তীব্র খাদ্য সংকটে বন্যপ্রাণীরা

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে নির্বিচারে গাছ কেটে বিদেশি গাছ লাগানোর কারণে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছে বন্যপ্রাণীরা। আবার খাবার সংগ্রহে বন থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে গেলে একদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে।

অন্যদিকে গারো সম্প্রদায়ের লোকজন বন্যপ্রাণীগুলোকে শিকার করে খেয়ে ফেলছে। ফলে বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে বন কর্মকর্তা কিছু না বললেও টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক বনের গাছ কাটা এবং বনে অবৈধ দখলের কথা স্বীকার করে বন্যপ্রাণীদের খাবারের জন্য সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল মধুপুর বনাঞ্চল। এই বনাঞ্চলে একসময় বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ছিলো। এক সময় এই বনেই বাঘ সিংহ বন্য হাতিসহ নানা প্রজাতির প্রাণী থাকলেও এখন আর দেখা মেলে না। প্রভাবশালী আর অসাধু বন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বনখেকোরা নির্বিচারে বনের শাল, সেগুন ও গজারি গাছ কেটে বন দখল করে কৃষি জমি ও বসতবাড়ি নির্মাণ করেছে। ফলে বন্যপ্রাণীদের প্রাকৃতিকভাবে খাবার সংকট দেখা দেয়ায় বন থেকে বিলুপ্ত হয়েছে এসব প্রাণী। বর্তমানে কিছু বানর, কয়েকটি হনুমান আর একটি হরিণ প্রজনন কেন্দ্র থাকলেও প্রাণীগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার পাচ্ছে না। সরকারিভাবে খাবারের জন্য সামান্য টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রাণীগুলোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, এক সময় বনে বাঘ ভাল্লুক থাকলেও বনে মানুষের বসবাস বেড়ে যাওয়ায় এবং প্রাকৃতিকভাবে খাবার সংকট থাকায় বন্যপ্রাণীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম বনের গাছ কাটা এবং বনে অবৈধ দখলের কথা স্বীকার করে বন্যপ্রাণীদের খাবারের জন্য সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এখানে যারা পর্যটক যান তারা অনেক সময় খাবার দিয়ে থাকেন। কিন্তু বানরগুলো আসলেই খাবারের জন্য সাফার করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।’

বর্তমানে মধুপুরে ২০ হাজার একর বনভূমিতে ১৭ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও হরিণ প্রজনন কেন্দ্রে ৭০টি হরিণ, দুই শতাধিক বানর এবং হনুমান রয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.