ব্রেকিং নিউজ

বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়ীতে প্রেমিকার অবস্থান, মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের মাঝুখান এলাকার আলকাছ মিয়ার মেয়ে লাকী আক্তারের(২২) সাথে তিন বছর আগে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় উপজেলার লস্করচালা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ফারুক আহম্মদের (২৫) সাথে।
পরিচয় সুত্রে একে অপরকে ভাল লাগা থেকে প্রেম তারপর তাদের ঘনিষ্ট মেলামেশার ফলে প্রেমিক ফারুক বিয়ের প্রস্তাব দেয় লাকী আক্তারকে। লাকীও ফারুকের দেয়া বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। কিন্তু ফারুক বার বার সময় দিয়েও লাকিকে দেয়া বিয়ের প্রস্তাবটি কৌশলে এড়িয়ে যেতে থাকে।
ফারুক বিয়ের প্রস্তাব থেকে এড়িয়ে যাওয়ার ফলে ৯ ফেব্রুয়ারী প্রেমিক ফারুকের কালিয়াকৈর উপজেলার লস্করচালা গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে লাকী বিয়ে করার জন্য তাগিদ দিয়ে অবস্থান নেয়। ওই সময় ফারুকের বাবা আবুল কাশেম ও বড় ভাই ফরহাদ, সুলতান নামের এক ব্যাক্তিসহ কয়েকজন মিলে লাকীকে বেধরক মারপিঠ করে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। পরে লাকি আক্তার গত ১৩ ফেব্রুয়ারী সকালে এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে জানা যায়, পরিচয় সুত্রে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে ফারুক ধর্ষন করে লাকীকে। এর পর থেকে বিভিন্ন রিসোর্ট কক্ষে আবার বাড়ীতেসহ গত তিন বছরে শতাধিক বার লাকী আক্তারকে যৌন নির্যাতন করেছে ফারুক। এরই মধ্যে কৌশলে যৌন নির্যাতনের চিত্র মোবাইলে ধারণ করে নেয় ফারুক। গত কয়েক মাস আগে ফারুককে বিয়ে করার জন্য বলা হলে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে লাকীকে কোন কিছু বলার জন্য হুমকি দেয়। ওই সময় ফারুকের কাছে থাকা লাকীর অশ্লীল ছবি বিভিন্ন সামাজিক ওয়েব সাইডে ফাঁস করার হুমকি দেয় ফারুক।
হুমকির পরে লাকী প্রেমিক ফারুককে জানায়, বিয়ে না করলে একটি চিরকুট লিখে সুইসাইড করবে। ওই সময় প্রতিউত্তরে ফারুক জানায়, তোর অশ্লীল ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দিবো। ওই দিন রাতেই ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় লাকি। কিন্তু বাড়ির লোকজন নানাভাবে বুঝিয়ে তাকে রক্ষা করে। অভিযোগটির তদন্ত ভার পড়ে মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ীর এসআই রফিকুল ইসলামের উপর। সেখানেও চলে লাকিকে নিয়ে নানা তালবাহানা। লাকী ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ফারুকের সাথে বিভিন্ন অঙ্গাঅঙ্গিভাবে তোলা ছবি দেখালেও এবং ফারুকের কাছে থাকা লাকীর বিশেষ মূহুর্তের আরও অশ্লীল ছবি উদ্ধারের কোন তৎপরতা না দেখিয়ে আগামী বুধবার পুলিশ ফাঁড়ীতে দুই পক্ষকে বসার জন্য ডাকেন পুলিশ কর্মকর্তা।
লাকী আক্তার জানান, তিনি কাজী আজিম উদ্দিন কলেজের অর্নাসের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত তিন বছর ধরে বিয়ের প্রভোলন দেখিয়ে ফারুক হোসেন বহুবার আমাকে যৌন নির্যাতনসহ অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে জিম্মি করেছিল। যখনই বিয়ের কথা বলেছি তখনই ওই অশ্লীল ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। আমাকে বিয়ে না করলে আমি যে কোন মুর্হুতে সুইসাইড করবো।
এব্যাপারে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের বড় ভাই ফরহাদ মিয়া জানান, ওইা ঘটনাটি মিথ্যা। আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য নাটক করছে। তবে ফারুকের সাথে কথা বলতে চাইলে ফরহাদ মিয়া মোবাইল ফোন কেটে দেয়।

মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ীর অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি গভীর তদন্ত করে দেখছি। তবে আগামী বুধবার দুইপক্ষকে ডাকা হয়েছে। দুই পক্ষের লোকজন আসলে বিষয়টি পরিস্কার হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.