ব্রেকিং নিউজ :

সচেতনতার মাধ্যমেই ফিরে আসা যায় অশ্লীলতার অন্ধকার জগৎ থেকে

অশ্লীল ভিডিও দেখা একজন ব্যক্তির জন্য মারাত্মক নেশা। এই অশ্লীল ভিডিও দেখারনেশা একজন মানুষকে তার সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে সংক্রিয়ভাবে দূরে নিয়ে আসে।

তবে এই নেশা থেকে মুক্তি পাওয়া অবশ্যই সম্ভব। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো  বিধি নিষেধমেনে চলা। ধর্মীয় নীতি মেনে চললে এই ভয়াবহতা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।এছাড়াও স্মার্টফোনে বিভিন্ন অশ্লীল সাইটগুলো ব্লক করে রাখলে একজন মানুষ এইসমস্যা থেকে দূরে চলে আসতে পারে। এছাড়াও আরো অনেক উপায় আছে এই ভয়াবহতাথেকে ফিরে আসার।

কিছু সচেতনতা অবলম্বন করলে এই নেশা থেকে বের হওয়া যায়।

১. সচেতনতাই প্রথম ধাপ: এই আসক্তি দূর করার জন্য এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতনতাই হতেপারে প্রথম পদক্ষেপ। এর কুফলগুলো যদি ঠিকমত উপলব্ধি করেন, তাহলেসহজাতভাবেই এর প্রতি আপনার চিন্তাধারায় একটি পরিবর্তন সূচিত হবে। আপনাকেউপলব্ধি করতে হবে, এই আসক্তি একটি মনো-সামাজিক ব্যাধি। এর শারীরিক ও মানসিককুফল অনেক। স্নায়ুকে ক্রমাগত উত্তেজিত করার মাধ্যমে এটি আপনার রক্তচাপ বৃদ্ধি,হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি হরমোনাল ডিজঅর্ডারঘটায়। এর জন্য আপনাকে মাত্রাতিরিক্ত মাস্টারবেশন করতে হয়, যা পরবর্তীতে আপনারব্যাপক স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সেই সাথে নৈতিক অবক্ষয় ও মানসিকভারসাম্যহীনতার বিষয়টাকেও মাথায় রাখুন। আপনার স্বাভাবিক জীবন ও সামাজিকসম্পর্ক সুরক্ষার তাগিদে তাই এর বিরুদ্ধে সচেতন হোন এখনই।

২. সরিয়ে ফেলুন অশ্লীল ভিডিও দেখার বিভিন্ন উপাদান: সেক্সুয়াল যেসব কন্টেন্টআপনার পিসির হার্ড ড্রাইভ বা ফোনে সংরক্ষিত আছে তা মুছে ফেলুন দৃড়চিত্তে। নইলেহাতের কাছে থাকা সহজলভ্য উপাদানের আকর্ষণে আবারও আপনি সেই জগতে ফিরেযেতে পারেন। সেই সাথে ইন্টারনেটের সেইসব ওয়েব সাইটের কাছ থেকে দূরে থাকারজন্য ব্যবহার করতে পারেন প্রোটেকশনাল সফটওয়্যার।

৩. গড়ে তুলুন সুস্থ বিনোদনের অভ্যাস: সাধারণত একাকীত্ব, বিষণ্ণতা, হতাশার চাপ থেকেমুক্তির জন্যই মানুষ অসুস্থ বিনোদনের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। সঙ্গ দোষ কিংবা মাদকাসক্তিওএসবের উল্লেখযোগ্য কারণ। তাই সুস্থ বিনোদনের অভ্যাস গঠন করা অপরিহার্য। এতেআপনি এই আসক্তি তো বটেই মাদকাসক্তি থেকেও বেরিয়ে আসতে পারবেন। ভালো গানশোনা, ভালো মুভি দেখা, ভালো বই পড়া হতে পারে সম্ভাব্য ভালো অপশন। এছাড়াপ্রকৃতির সান্নিধ্যে যেতে পারেন কিছু সময়ের জন্য। হাঁটা কিংবা জগিং করার মতএক্সারসাইজগুলোও আপনাকে দেবে বাড়তি অনুপ্রেরণা। বন্ধুদের সাথে ভালো আড্ডাওহতে পারে আপনার ইতিবাচক পরিবর্তনের উৎস।

৪. অনুশীলন করুন ধর্মীয় মূল্যবোধ: আপনি যে ধর্মেরই অনুসারী হোন না কেন, তারমূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা আপনাকে এই আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে অবশ্যই সহায়তাকরবে। নামাজ বা প্রার্থনা আপনাকে দেবে আত্মিক পরিশুদ্ধি। এছাড়া ধর্মগ্রন্থ পাঠ করতেপারেন নিজের জীবনকে আরও সুসংহত করার তাগিদে। ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের উপদেশ এবংজীবনী থেকেও শিখতে পারবেন, কী করে পাপাসক্তি থেকে প্রত্যাবর্তন করে নির্মল জীবনশুরু করা যায়।

আর এরই মাধ্যমে একজন মানুষ সহজেই এই অশ্লীলতার ভয়াবহতা থেকে বের হয়েআসতে পারে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.