ব্রেকিং নিউজ

টাঙ্গাইলের লৌহজং নদীতে বাঁধ দিয়ে চলছে ট্রাক

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: নদী দিয়ে সাধারণত নৌকা ও লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চলছে মাটিভর্তি ট্রাক।

এ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদীর কোর্ট বহুরিয়া এলাকায় মাত্র ৩০০ গজ দূরত্বের মধ্যে আড়াআড়িভাবে তিনটি বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ওই বাঁধের ওপর দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে ট্রাক। বোরো প্রকল্প বন্ধ করে এসব ট্রাকের মাধ্যমে তিন ফসলি জমির মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়।

লৌহজং নদীতে পর পর তিনটি বাঁধ দেওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে নৌ যোগাযোগ। এতে বিলুপ্তি ঘটছে মৎস সম্পদের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও রহস্যজনক কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কোর্ট বহুরিয়া এলাকার ইটভাটা মালিক শহিদ ব্যাপারী (এসএমবি ১ ও ২), জয়নাল সর্দার (কেবিসি) ও মাটি ব্যবসায়ী মোতালেব মিয়া ফসলি জমির মাটি ভেকু মেশিন (এক্সকাভেটর) দিয়ে কেটে কমপক্ষে ৩০টি ট্রাকযোগে ইটভাটায় নিচ্ছেন। এই মাটি ট্রাকযোগে নেওয়ার জন্য কোর্ট বহুরিয়া এলাকায় লৌহজং নদীর মধ্যে পর পর তিনটি বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ফলে নদীর পানিপ্রবাহ ও নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকায় প্রজনন বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বিলুপ্তি ঘটছে মৎস সম্পদের। কৃষকদের জিম্মি করে প্রতিবছর ফসলি জমির হাজার হাজার ট্রাক মাটি কেটে নেওয়ায় এরই মধ্যে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি বোরো প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি বছরও একটি বোরো প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এলাকার কৃষকরা অভিযোগ করে বলে, প্রথমে ভাটা মালিক ও মাটি ব্যবসায়ীরা লোভ দেখিয়ে উচ্চমূল্য দিয়ে একজন কৃষকের জমির মাটি কেনে। পরে জমির সীমানা ঘেঁষে কমপক্ষে ১৫-২০ ফুট গভীর করে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হয়। বৃষ্টি বা বর্ষার সময় চারপাশের জমির মাটি ভেঙে ওই জমিতে পড়ে। এতে পাশের জমির মালিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। পরে বাধ্য হয়ে কম দামে ভাটা মালিকদের কাছে মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হয় তারা। এভাবে প্রতিবছর শত শত একর জমি খোয়াচ্ছে কৃষকরা। শুধু যে জমি খোয়াচ্ছে তা নয়, এলাকার কমপক্ষে ১৫টি পরিবার তাদের অত্যাচারে বাড়ি ও জমি হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে।

বোরো প্রকল্পের মালিক মীর দেওহাটা গ্রামের রকমান মিয়া ও কোর্ট বহুরিয়া গ্রামের তুফান মিয়া বলেন, মীর দেওহাটা গ্রামের ভাটা মালিক শহিদ ব্যাপারী, আব্দুল হাই ও জয়নাল সর্দার নদীতে বাঁধ দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক মাটি নিচ্ছেন। বিপদে পড়ে কৃষকরা তাঁদের কাছে কম দামে আবাদি জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে মাটি ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন বলেন, ‘গত বছর স্টাইল ইটভাটা মালিক আব্দুল হাই নদীতে বাঁধ দিয়েছিলেন। আমি ওই বাঁধের ওপর দিয়ে ট্রাকে করে মাটি বহন করছি। ’

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, ‘কোর্ট বহুরিয়া এলাকায় লৌহজং নদীতে বাঁধ দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে শুনেছি। দুই-এক দিনের মধ্যেই অভিযান চালিয়ে বাঁধগুলো ভেঙে দেওয়া হবে। ’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.