মির্জাপুরে নদী দখল করে ইটভাটা

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় প্রভাবশালী মহল নদী দখল করে অবৈধভাবে পাঁচটি ইটভাটা গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন ছাড়াও নদীর প্রশস্থতা ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে।

বছরের পর বছর এভাবে ইটভাটা চললেও প্রশাসন নির্বিকার বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে সরকার প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী বলছে, এ উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের আজাগানা ইউনিয়নের বংশাই নদীর বেলতৈল ও চিতেশ্বরী এলাকায় বংশাই নদীর চর জেগে উঠলে গত প্রায় এক যুগ ধরে সেখানে পাঁচটি ইটভাটা স্থাপন করে বহাল তবিয়তে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে বংশাই নদীর ওপর নির্মিত হাটুভাঙ্গা ব্রিজের পশ্চিম পাশে দুটি এবং পূর্বপাশে নদীর দক্ষিণপারে তিনটি ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে।

ভাটাগুলো হলো এসবিএম-১, এইচবিএম-১, কেইউবি, হাজী ব্রিকস ও এবিএম। নদীর চর দখল করে ইটভাটা চালিয়ে গেলেও সরকারকে কোনো রাজস্ব দেয়া হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

হাটুভাঙ্গা ব্রিজের পশ্চিম পাশে স্থাপিত হাজী ব্রিকস ও এবিএম ইটভাটা দু’টির চিমনি রেকর্ডিয় জমিতে নির্মিত হলেও ইট তৈরি, শুকানো, মাটির স্তুপ ও পোড়া ইট নদীর চর দখল করে রাখা হচ্ছে।

এতে ভাটা দুটি আনুমানিক ছয় একর নদীর চর দখল করে ব্যবসা করে যাচ্ছে। অপরদিকে ব্রিজের পূর্বপাশে নদীর দক্ষিণপারে গড়ে উঠা এসবিএম-১, এইচবিএম-১, কেইউবি ইটভাটা তিনটির বেশির ভাগ নদীর চর দখল করে গড়ে উঠেছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

এতে ঐতিহ্যবাহী বংশাই নদীর ওই এলাকায় প্রশস্থতা দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। এভাবে নদীর চর দখল হতে থাকলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে নদীর নাব্যতা হারিয়ে যাবে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।

এইচবিএম ইটভাটা মালিকের মেয়ের জামাই ও ভাটার ম্যানেজার বাবু জানান, গোড়াই ও আজগানা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তির রেকর্ডিয় জমি ভাড়া নিয়ে ভাটা চালানো হচ্ছে। ভাটার উত্তরপাশে নদীর কিছু জমি থাকতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন।

মির্জাপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর হোসেন ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে ওই অফিসের সার্ভেয়ার সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ইটভাটা পাঁচটিই নদীর চর দখল করে ব্যবসা করে আসছেন। তিনি আরও জানান, ওইসব ভাটা থেকে সরকার কোন রাজস্বও পাচ্ছেন না। তবে কেন এ পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, নদীর বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড দেখে থাকেন বলে উল্লেখ করেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল মালেক বলেন, নদ-নদী এ দেশের জাতীয় সম্পদ। যারা নদী ও তার আশপাশ দখল করে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে তুলেছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ভাটা মালিকদের জরিমানা করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.