ব্রেকিং নিউজ

কিডনি স্বাস্থ্য রক্ষায় আমাদের করণীয়   ….ডা.রুনা লায়লা

** সারা পৃথিবীতে দিনে দিনে কিডনী রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে । কিডনী আমাদের শরীরের অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গ তাই কিডনী ভাল রাখা জরুরি।
কিডনী কীভাবে কাজ করে ?কিডনী আমাদের শরীরে ছাকনি হিসাবে কাজ করে। রক্ত থেকে পরিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত তরল ও বর্জ্য পদার্থ মূত্র হিসাবে বের করে দেয়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকরে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বর্তমানে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন কিডনী রোগী আছে। ক্রনিক কিডনী ডিজিজ (CKD)এর কারণে প্রতিবছর প্রায় ২.৪ মিলিয়ন রোগী মারা যায় । সারা পৃথিবীতে মৃত্যুর দ্রুত বর্ধনশীল কারণ হিসেবে কিডনী ডিজিজ ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে।

কারণ :
১. উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস
২. জন্মগতএবং পরিবারে কিডনী ডিজিজ এর ইতিহাস থাকলে
৩. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষধ সেবন যেমন : এ্যাসপিরিন, ইব্রুপ্রোফেন,এসিটামিনোফেন, ন্যাপ্রোক্রিন ইত্যাদি
৪. হৃদরোগ
৫. কিডনীতে টিউমার
৬. কিডনীতে পাথর
৭. শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া
৮. ধূমপান।

লক্ষণ:
১. প্রস্রাবে জ¦ালাপোড়া ,ঘনঘন প্রস্রাব ও প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া
২. চোখের চারিপাশ ও মুখম-ল ফুলে যাওয়া
৩. পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া
৪. কোমরের দুই পাশে ব্যথা করা-প্রথমে অল্পঅল্প, পরেতীব্র ব্যথা
৫. দূর্বলতা বোধকরা, বমি বা বমিবমি ভাব, ক্ষুধামন্দ্য
৬. অনবরত ত্বক চুলকানো
৭. উচ্চ রক্তচাপ
৮. রক্তস্বল্পতা।

প্রতিরোধ:
১. উচ্চ রক্তচাপও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখা
২. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা,পর্যাপ্ত ব্যায়াম করা
৩. ৬ মাস পরপর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা
৪. পর্যাপ্ত পানিপান করা (কমপক্ষে ২-৩লিটার বা ৮থেকে ১২ গ্লাস) পানি পান করা উচিৎ
৫. দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখা থেকে বিরত থাকা
৬. খাবারে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করা
৭. পর্যাপ্ত ঘুমানো
৮. ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকা।

স্ক্রিনিং: ১। প্রস্রাব (R/M/E) পরীক্ষা মাধ্যমে কোন জীবাণু ,পাসবাপুঁজ এবং এলবুমিন ইত্যাদি যায় কিনা ২। আল্ট্রাসোনোগ্রামের মাধ্যমে কিডনীতে পাথর, টিউমার বা কোন ধরনের সমস্যা আছে কিনা তা জানা যায় ৩। কিডনীর জন্য সেরাম ক্রিয়েটি নিন ৪। ডায়াবেটিসের জন্য (FBS and RBS), (OGTT) এবং ৩ মাসের গড় দেখার জন্য (HbA1C) ৫) উচ্চ রক্তচাপের জন্য লিপিড প্রোফাইল ইত্যাদি।
উপদেশ: কিডনী সমস্যা একবার শুরু হলে প্রতিরোধ করা খুবই কঠিন,তাই উপরোক্ত লক্ষণ গুলোর মধ্যে যেকোন একটি দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ মত কিডনীর পরীক্ষা করা উচিৎ। কোন লক্ষণ না থাকলেও ৪০ বছর বা তারপর প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর কিডনীর পরীক্ষাসহ ডাক্তারের পরামর্শমত সব ধরনের পরীক্ষা করা উচিৎ।

 

ডা.রুনা লায়লা
এম.বি.বি.এস,এম.পি.এইচ (মা ও শিশু স্বাস্থ্য), ডিপ্লোমা ইন আল্ট্রাসোনোগ্রাম
পি.জি.টি-গাইনী ও অবস্ ,সি.সি.ডি-বাডেম

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.