ব্রেকিং নিউজ

টাঙ্গাইলে প্রাথমিক বিদ্যালয় ‘ভেদ করে’ গেছে পাকা সড়ক

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে স্বল্প মহেড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ‘ভেদ করে’ গেছে পাকা সড়ক। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দেলদুয়ারের ডুবাইল থেকে মির্জাপুরের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ও ছাওয়ালী বাজার হয়ে ফতেপুর বাজারে গিয়ে মিলেছে সড়কটি। এর দুই পাশে পড়েছে স্কুলের দুটি ভবন। প্রতিদিনই এ সড়ক দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে, তাই সড়কের পাশ থেকে স্কুলটি সরানোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৯৩৮ সালে স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগী মিলে চাটাইয়ের বেড়া দিয়ে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এখানে ২২১ জন শিক্ষার্থী আছে। স্বাধীনতার পর স্কুলটি সরকারি করা হলে টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ডুবাইল-মহেড়া-ফতেপুর সড়কের দুই পাশে স্কুলটির দুটি ভবন আছে। উত্তর পাশের টিনশেড ভবনে শিক্ষকদের বসার রুমসহ শ্রেণিকক্ষ, আর দক্ষিণ পাশের পাকা ভবনে আছে শ্রেণিকক্ষ।

এ ছাড়া টিউবওয়েল-টয়লেটও সড়কটির দক্ষিণ পাশে। এক ভবন থেকে আরেক ভবনে যাওয়া ছাড়াও টয়লেট ব্যবহার ও পানি আনার জন্য শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে দৌড়ে সড়ক পার হতে দেখা গেছে। এ সড়ক দিয়ে বাস, পিকআপ ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ২৫-৩০টি গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে থাকে। এ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা ও কালীপূজায় সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল আরো কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এ কারণে ধুলাবালিতে স্কুলের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগে থাকে। ধুলা যাতে না ওড়ে সে জন্য স্কুলের দপ্তরি-কাম-নৈশপ্রহরী এম এন হুদা পাইপের সাহায্যে পাশের মসজিদ থেকে সড়কটিতে মাঝেমধ্যে পানি দিলেও তেমন লাভ হয় না। এ ছাড়া স্কুলে কোনো খেলার মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে না।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক খন্দকার রুমানা আক্তার জানান, শিক্ষকদের সব সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঝুঁকিতে থাকতে হয়। টয়লেট ও টিউবওয়েল সড়কের দক্ষিণ পাশে। স্কুলটিতে মাত্র ৯ শতাংশ জমি আছে। খেলার মাঠ নেই।

স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ তালুকদার জানান, তাঁদের পরিবারের দেওয়া জমিতে স্কুলটি স্থাপিত হয়েছে। ২০০৪-০৫ সালে সরকার স্কুলটিতে নতুন ভবন বরাদ্দ দিলেও জমি না থাকায় নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। সড়কটির দক্ষিণ পাশে মাদরাসা ছিল। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্কুলের নামে ৪ শতাংশ জমি লিখে নিয়ে সেই জমির মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠার সময় কত শতাংশ জমি স্কুলের নামে দেওয়া হয়েছিল, তা জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী কমপক্ষে ৩০ শতাংশ জমির নিচে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হওয়ার কোনো নিয়ম নেই। কিভাবে স্কুলটিতে নতুন ভবন হয়েছে, তা আমার জানা নেই। তবে মাঝ দিয়ে পাকা সড়ক যাওয়ায় স্কুলটি ঝুঁকির মধ্যে আছে। এলাকাবাসীর উদ্যোগ নিয়ে স্কুলটি অন্যত্র নেওয়া প্রয়োজন। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মালেক জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.