যে কারনে এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না সাবেক এমপি রানা

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় জামিন পেলেও দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় পাওয়া অন্তর্র্বতীকালীন জামিন স্থগিত হওয়ায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন। তবে টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় গত সপ্তাহে হাইকোর্টের দেয়া জামিন চেম্বার আদালতে স্থগিত করেছে।

হাইকোর্টে রানার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

বিগত ২০১৭ সালের (১৩ এপ্রিল) মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন রানা। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে তা স্থগিত করে দেয় আপিল বিভাগ। এরপর ওই বছরের (১৯ অক্টোবর) আপিল বিভাগ জামিনের এই স্থগিতাদেশ চলমান রেখে জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল ৪ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয়। ওই আদেশ অনুযায়ী চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। পরে নতুন করে বিচারিক আদালতে জামিন আবেদন করেন সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা।

বিচারিক আদালতে গত বছরের (৫ সেপ্টেম্বর) ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় এবং (৩০ সেপ্টেম্বর) যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় রানার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। এরপর হাইকোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

বিগত ২০১৩ সালের (১৮ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তৎকালীন এমপি রানা ২০১৬ সালের (১৮ সেপ্টেম্বর) আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠান টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালত। এ মামলায় বিগত ২০১৭ সালের (৩ ফেব্রুয়ারি) আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাই জাহিদুর রহমান খান কাকন, শহিদুর রহমান খান মুক্তি, সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই বছর (৬ সেপ্টেম্বর) দণ্ডবিধির ৩০২, ১২০, ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তাদের বিচার শুরু করে আদালত। মামলাটি বর্তমানে স্বাক্ষগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

 

এদিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন বিগত ২০১২ সালের (১৬ জুলাই) মোটরসাইকেলে করে টাঙ্গাইল শহরে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই ঘটনায় বিগত ২০১৩ সালের (৯ জুলাই) নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্ত করে ওই বছরের (২১ সেপ্টেম্বর) মামলাটি তালিকাভুক্ত করে পুলিশ।

পরে এ মামলায় গ্রেপ্তার খন্দকার জাহিদ, শাহাদত হোসেন ও হিরণ মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগ নেতা আমানুর রহমান খান রানার নাম আসে। গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেন, রানার নির্দেশেই যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.