ব্রেকিং নিউজ

টাঙ্গাইলের মাভাবিপ্রবিতে ৩ শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা 

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ৩ শিক্ষার্থীকে হলে ডেকে নিয়ে মেরে হাত ভেঙে দেওয়াসহ বেদম মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম শিকদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। সহযোগী অন্যরা হলো আতিক, আনিন্দ্র, মিজান ও রাশেদ। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের অনুসারী।

শুক্রবার রাত ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জননেতা আব্দুল মান্নান হলে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নাম ফাহিম, রানা ও শুভ। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

শনিবার (৯ মার্চ) দুপুর দুইটায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা উক্ত বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগি অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে অভিযোগ করে। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা শনিবার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে।

ওই বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা তাদের র‌্যগিংয়ের নামে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। প্রায় দেড় মাস সিনিয়রদের সম্মান দেখিয়ে চুপচাপ ছিলেন তারা। কিন্তু শিবির আখ্যা দিয়ে রানাকে এবং ফেইসবুকে চ্যাট করা নিয়ে ফাহিম ও শুভকে পেটানোর পর তারা ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। এর আগেও তারা পাঁচজনকে পিটিয়েছেন। আর এ সবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সায়েম শিকদার। সায়েম ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমানের সমর্থক। অভিযোগ দেবার পরপরই সাইদুর রহমান তার দলবল নিয়ে বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে এসে সায়েমকে বাচানোর তদবির করে। এ সময় তার দলের ছেলেরা ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে থাকে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রানা বলেন, ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আতিক আমাকে রাত ৮ টার দিকে মান্নান হলে ডেকে নিয়ে হলের ৩য় তলার একটি কক্ষে আটকে রাখেন। প্রায় এক ঘন্টা আটকে রাখার পর সায়েম, মিজান, রাশেদ, অনিন্দ্র এসে আমাকে হলের ছাদে নিয়ে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে প্রায় দুই ঘন্টা ধরে মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে আমাকে শিবির আখ্যা দিয়ে আমার গলায় ছুরি ধরিয়ে জোরপুর্বক আমার স্বীকারোক্তি আদায় করে মোবাইলে আমার ভিডিও ধারণ করে। আমার বাকি দুই বন্ধুকে বান্ধবীকে নিয়ে ফেইসবুকে চ্যাট করায় তাদেরকেও স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর করে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সায়েম শিকদার বলেন, আমাদের নিয়ে যা অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পন্ন ভিত্তিহীন। আমরা জানতে পেরেছি রানা নামে একটি ছেলে শিবির করে। তাকে আমরা হলে ডেকে এনে বুঝিয়েছি যেন আর শিবির না করে। তাকে মারধর করা হয়নি। এছাড়া আমরা ফাহিম ও শুভ নামে কাউকে মারধর করি নাই।

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন, আমি কোনও তদবিরের জন্য বিভাগে যাইনি। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সেখানে গিয়েছিলাম। অভিযুক্তরা দোষী প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো: খাইরুল ইসলাম বলেন, আমার বিভাগের ৪র্থ ও ৩য় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী হলে ডেকে নিয়ে ১ম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। ভুক্তভোগী ব্যাচ থেকে বিভাগ বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। দোষী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.