ব্রেকিং নিউজ

সেলিব্রেটিদের মত চুল কাটায় নিষেধাজ্ঞা, ওসির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক: টাঙ্গাইলের ভূয়াপুরে বিভিন্ন সেলিব্রেটিদের মতো স্টাইল করে চুল কাটার ব্যাপারে ভূয়াপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিষেধাজ্ঞা এবং ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ঘোষণা করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় তরুণ ও শিক্ষার্থীরা। ওসির এই মনগড়া নিয়মের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।এ এদিকেঅভিভাবকদের অনুরোধে এমন আদেশ দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়ে ভূয়াপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ওই নোটিশ নামিয়ে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ৭ মার্চ ভূয়াপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম ভূয়াপুর পৌর শহরের শীল সমিতির সদস্যদের থানায় ডেকে নিয়ে আসেন। পরে তাদেরকে নির্দেশনা দেন যে, তরুণ ও যুবকদের দেশ বিদেশের বিভিন্ন সেলিব্রেটিদের মতো করে চুলের কাটিং দেয়া যাবেনা। স্টাইল করে চুল কাটলেই তাকে আটক করে তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হবে। শীলদের সাথে আলোচনার পরেই পৌর এলাকার প্রতিটি সেলুনে ওসির স্বাক্ষর এবং সিল যুক্ত নোটিশ ঝুলানো হয়। এরপর থেকেই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়।

এদিকে স্থানীয় তরুণদের দাবি, একজন মানুষ কীভাবে চুল কাটবে আর কী রঙের জামা কাপড় পরবে সেটা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। পছন্দের সেলিব্রেটিদের মতো করে চুল কাটা অপরাধ হতে পারে না। এক তরুণ বলেন, ‘চুল কাটা আমাদের নিজের স্বাধীনতা। আমারা খেলাধুলা দেখি। অনেক সময় খেলোয়াড়দের চুলের কাটিং ভালো লাগে এবং আমরাও সেভাবে চুল কাটি। আমার জিনিসটা খারাপ লেগেছে।’

এদিকে ভূয়াপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এরিমধ্যে চুল কাটার বিষয়ে বাধানিষেধের নোটিশ নামিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি মাঝেমধ্যেই স্কুলে বাচ্চাদের নিয়ে যে প্রোগ্রামগুলো করতাম সেখানে অভিভাবকরা আমাকে অনুরোধ করেছিলেন যে, তাদের বাচ্চারা যেভাবে চুল কাটাচ্ছে সেটার বিষয়ে যেনো একটা ব্যবস্থা নেই। আমি তাদের বলেছিলাম যে, বাবা-মা হচ্ছে বাচ্চাদের সবচেয়ে আপন। তারা যদি বুঝায় তাহলেই সবচেয়ে ভালো হয়। কিন্তু তারা আমাকে বলেন, সন্তানরা আমাদের কথা শুনছে না। আপনি যদি সেলুন মালিকদের বলে দিতেন তাহলে আমাদের বাচ্চারা ওই ধরনের কাটিং দিতে পারতো না।’

এরপর সেলুন মালিকদের সভাপতি এবং সেক্রেটারিকে ডেকে বাচ্চাদের দৃষ্টিকটু স্টাইলে চুল না কাটার জন্য বলে দেন বলে জানান রাশিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অভিভাবকরা যেহেতু চাচ্ছেন না তাই আমি তাদের ডেকে ওই ধরণের কাটিং না দেয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করেছিলাম।’

শিক্ষার্থীরা যাতে খারাপ দিকে চলে না যায় এবং শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য শিক্ষক এবং অভিভাবকদের অনুরোধে এটি করেছিলেন বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা। তবে পরে ওই নোটিশ নামিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সূত্র: সময় নিউজ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.