ব্রেকিং নিউজ

টাঙ্গাইলে এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ কর্তন

নিজস্ব প্রতিনিধি : টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের দাইন্যা চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবৈধভাবে একটি গাছ কর্তনের অভিযোগ ওঠেছে ওই এলাকার আব্দুল্লাহ্ হিল মাসুদ ফরজের নামে এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে ।

স্কুল শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ গাছ কাটার বিষয়ে একাধিকবার ফরজকে নিষেধ করা হলেও তিনি তা শুনেননি। সদর আসনের এমপি ছানোয়ার হোসেন ও সদর এলজিডি’র প্রকৌশলী ফারুক আহমেদের নাম ভাঙ্গিয়ে গাছ কর্তন করেছেন বলে জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ্ হিল মাসুদ ফরজ। তবে এই গাছ কাটার বিষয়ে কিছুই জানেন না সদর আসনের এমপি ছানোয়ার হোসেন ও সদর এলজিডি’র প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ।

ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে গাছ কর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। গাছ কর্তনের খবরটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমানকে অবগত করা হলে সদরের সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুখময় সরকার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কাটা গাছটির বিভিন্ন গুড়ি জব্দ করেছেন। সরেজমিনে বুধবার ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তিনজন শ্রমিক গাছটি কর্তন করছে।

গাছ কাটার বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ্ হিল মাসুদ ফরজ বলেন, প্রয়োজনে দুই মাস জেলা খাটবো তবু গাছটি কর্তন করে এখানে একটা ভবন করবো। অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সদর আসনের এমপি ছানোয়ার হোসেন ও সদর এলজিডি’র প্রকৌশলী ফারুখ আহমেদ তাকে মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছেন। মোবাইল ফোনে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে মৌখিক অনুমতির বিষয়টি দুজনেই অস্বীকার করেন। এরপর সুকৌশলে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ্ হিল মাসুদ ফরজ ও গাছ কাটার শ্রমিকরা পালিয়ে যায়।

বিকেল সাড়ে ৪ টায় সদরের সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুখময় সরকার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত কাউকে না পেয়ে গাছটি জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহালম মিয়া ও চেয়ারম্যান মো. লাভলু মিয়া লাভু’র দায়িত্বে দিয়ে আসেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্কুল পরিচালনা পরিষদের সদস্য শাহালম মিয়া বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বিকেলে স্কুলে এসে দেখতে পেলাম গাছ কাটা হয়েছে।

দাইন্যা চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মালেক মিয়া বলেন, সকালে শ্রমিকরা গাছ কাটতে আসলে তাদের একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছে। তারা আমার নিষেধ অমান্য করে গাছ পূণরায় কাটতে যায়। পরে বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।

স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাদের না জানিয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে তিনি গাছ কর্তন করেছেন।

দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লাভলু মিয়া লাভু বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে তাকে একাধিকবার মানা করা হয়েছে। গাছ কাটার বিষয়ে ইউএনও স্যার তাকে দেখা করতে বলেছেন। তিনি দেখা না করে আমাদের কথা অমান্য করে গাছটি কর্তন করেছেন। এসিল্যান্ড স্যার স্কুলে এসে গাছটি আমার জিম্বায় দিয়ে গেছেন। এসিল্যান্ড স্যারের পরবর্তী নিষেধ না পাওয়া পর্যন্ত গাছটি আমাদের জিম্বায় থাকবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ্ হিল মাসুদ ফরজ বলেন, আমাদের স্কুলে নতুন ভবনের অনুমতি হয়েছে। ভবনের জায়গায় গাছটি পরায় আমি গাছটি কর্তন করেছি। গাছ কাটার বিষয়ে সদর আসনের এমপি ছানোয়ার হোসেন মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন।

সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুখময় সরকার বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে ওই বিদ্যালয়ের গাছের বিভিন্ন গুড়ি তালিকা ও জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়াম্যানের জিম্বায় দিয়েছি।

এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। সদর আসনের এমপি ছানোয়ার হোসেন বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে আমি অবগত আছি। তবে গাছ কাটার অনুমতি কাউকে দেই নাই।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.