ব্রেকিং নিউজ

বৈশাখে রমনীদের প্রথম পছন্দ টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: বৈশাখী শাড়ি বুননে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন টাঙ্গাইল তাঁতপল্লীর তাঁতীরা। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এ বছর শাড়ি শিল্পে নতুন বৈচিত্র সংযোজনে তাঁতশিল্প বাজারে এনেছে হাইব্রিড নামক লাল সাদা সংমিশ্রণের অপরূপ সৌন্দর্যের শাড়ি।

জানা যায়, এ বছর টাঙ্গাইল জেলার নলশোঁধা, পাথরাইল, নলুয়া, বড়টিয়া, চিনাখোলা, মঙ্গলহোড়, করটিয়া, এনায়েতপুর, কালিহাতী উপজেলার বল্লা, রামপুরসহ প্রায় সব তাঁত পল্লীগুলোতেই বৈশাখী কাপড় বুননের কাজ ব্যাপকভাবে চলছে। এ শিল্পে শুধু পুরুষরাই নয়, বাড়ির মহিলারাও এ কাজে যথেষ্ট শ্রম দিচ্ছে। কেউ সুতা ছিটায় উঠানোর কাজে, কেউ সুতা পাড়ি করার কাজে, আবার কেউ সুতা নাটাইয়ে উঠানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বৈশাখের আগমন মুহূর্তে তাঁত পল্লীগুলোতে কাপড় তৈরির প্রচ- ব্যস্ততায় মহিলারাও সম-সাময়িকভাবে পুরুষের কাজ সম্পন্ন করতে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাঁত পল্লীর সোনা মিয়া, রফিক, সুমন নামের কয়েকজন তাঁত শ্রমিক জানান, প্রতি বছর ঈদ ও পূজা ব্যতীত পহেলা বৈশাখকে ঘিরে বাজারে শাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এই শাড়ির চাহিদা পূরণে তাদের দিনরাত ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। গ্রাহকদের চাহিদামতো বিভিন্ন দামের শাড়ি বুনন করছে তারা। একটি শাড়ি বুননে সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা মজুরি পাচ্ছে। বিশেষ দিনটি উপলক্ষে এই শাড়ি বুননে তাদের ভালো উপার্জন হচ্ছে বলেও জানান তারা।

পাথরাইল তাঁতপল্লীতে ঢাকা থেকে শাড়ি কিনতে আসা ফাতেমা বেগম জানান, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি খ্যাতি সম্পন্ন। এ শাড়ির গুন ও মান সমাদ্রিত। বৈশাখের নতুন ও ভালো মানের শাড়ি ঢাকা থেকে কিছুটা কম দামে কিনতে এই তাঁতপল্লীতে এসেছেন। বেশ কয়েকটি বৈশাখী শাড়ি কিনেছেন বলেও জানান তিনি।

তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ পাথরাইল ও চন্ডি এলাকার কয়েকজন নারী ও পুরুষ ক্রেতা জানান, এবারের বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইল তাঁতে নিত্য নতুন ডিজাইনের অনেক শাড়ি বাজারে এসেছে। কিন্তু দাম গতবছরের তুলনায় একটু বেশি। এরপরও ব্যাপক ভিড় জমছে টাঙ্গাইলের এই তাঁতপল্লীর শাড়ির দোকানগুলোতে।

ধুলটিয়ার তাঁত ব্যবসায়ী উজ্জল হোসেন বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে দেশ জুড়ে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির চাহিদা অনেক। এ বছর হাইব্রিড নামক নতুন বৈশাখী শাড়ি তারা বাজারে এনেছে। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকেই তাদের তৈরি শাড়ি সংগ্রহ করতে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতা ভিড় জমাচ্ছে। এ বছর তারা সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা মূল্যমানের শাড়ি বাজারে এনেছে।

পাথরাইল এলাকার বিশিষ্ট তাঁত কাপড় ব্যবসায়ী রঘুনাথ বসাক বলেন, বৈশাখ বাঙালিদের একটি বড় উৎসব। এ দেশের নারীদের এ উপলক্ষে লাল ও সাদা রংয়ের সংমিশ্রণে প্রস্তুতকৃত শাড়ি কেনাটাও এক রকম অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এ উপলক্ষে তিনিও এ বছর হরেক রকমের শাড়ির সমারোহ ঘটিয়েছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় তার বিক্রিও এ বছর ভাল হচ্ছে বলে জানান।

এ ব্যাপারে করটিয়া কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাজাহান আনছারী জানান, গতবছরের তুলনায় এ বছর বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। পহেলা বৈশাখ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল বাঙালির একটি বড় উৎসব। এ উৎসবটিকে সামনে রেখে তাঁতীরা ভাল মানের কাপড় প্রস্তুত করায় দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারী ক্রেতাদের এই হাটে সমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে তাঁতীরা কাপড়ের দাম ভালো পাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.