শিশুকে মাথায় তুলে আছাড় মারলেন বাবা

সোমবার সকালে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের জয়ধরভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- নাজিমুলের স্ত্রী রশিদা খাতুন (২৮), তার বড় মেয়ে নাজিরা খাতুন (৮) এবং মেজো মেয়ে রিয়া মনি (৫)।

পুলিশ ও গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা জানায়, ১০ বছর আগে ওই এলাকার নাজিমুল ইসলাম ও রশিদা বেগমের বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর মধ্যে তাদের সংসারে জন্ম নেয় তিন কন্যা সন্তান। সোমবার ভোরে ঘুম থেকে উঠেই রশিদা বেগমের সঙ্গে ঝগড়া শুরু হয় নাজিমুল ইসলামের।

একপর্যায়ে ছোট মেয়ে রত্না আক্তারকে মাথায় তুলে মাটিতে আছাড় মারেন বাবা নাজিমুল। এতে ঘটনাস্থলে শিশুটি মারা যায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী রশিদা এবং দুই মেয়েকে কুপিয়ে জখম করেন নাজিমুল। স্ত্রী ও সন্তানদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যান নাজিমুল।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহত গৃহবধূর বাবা রশিদুল ইসলাম, পারিবারিক কলহের জেরে নাজিমুল ইসলাম এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনার পর নাজিমুল ইসলামসহ তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে।

তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকে নানা অজুহাতে নাজিমুল ইসলাম আমার মেয়েকে নির্যাতনসহ মারপিট করতো। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে পক্ষে বিপক্ষে একাধিক মামলাও হয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে নাজিমুল ইসলাম আমার মেয়ে এবং নাতনিদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘটনাটি ঘটেছে। তবে ঘটনাটি মর্মান্তিক। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মনছুর আলম বলেন, মৃত অবস্থায় ছয় মাসের শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। অন্য দুই মেয়ে গুরুতর জখম হয়েছে। তারা বমি করছিল। মাসহ গুরুতর আহত দুই মেয়েকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর থানা পুলিশের ওসি আবু আককাছ আহমেদ বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় অভিযুক্ত নাজিমুল ইসলামসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যরা পলাতক। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া শিশুটির মরদেহ তার নানার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর নানার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.