ব্রেকিং নিউজ

নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন অবৈধভাবে ড্রেজিং; হুমকিতে টাঙ্গাইল শহররক্ষা বাঁধ

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলে পৌলী নদী অবাধে বালু উত্তোলন আর অবৈধভাবে ড্রেজিংয়ের ফলে হুমকির মুখে পড়ছে টাঙ্গাইল শহররক্ষা বাঁধ। বালু উত্তোলন কেন্দ্র করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে কয়েকটি বালুর ঘাট। তিন গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এই বাঁধ। আর এসব বালুঘাট থেকে প্রতিদিন শত শত বালুভর্তি ট্রাক যাতায়াত করায় চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে শহররক্ষা বাঁধটি। কিছু স্বার্থলোভী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল অবাধে পৌলী নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। ফলে প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসী।

অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পৌলী সেতুর পাশেই পৌলী নদী থেকে ভেকু দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী মহল। দিনের বেলায় অন্যের লিজ নেওয়া জমি থেকে বালু উত্তোলন করলেও রাতের বেলায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তারা।

জানা যায়, ২০০০ সালে কম্পার্টমেন্টালাইজেশন পাইলট প্রজেক্ট (সিপিপি) আওতায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধটি তৈরি করা হয়। টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ তৈরি হওয়ার পর বিগত ১৮ বছরে বড় ধরনের কোনো মেরামতের কাজ না হওয়ায় ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধের বিভিন্ন অংশ ইতিমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাঁধের পূর্বাংশ পৌলী সেতু থেকে মহেলা, আগবেথর, পাছবেথর, শালিনা, বার্থা হয়ে করটিয়া পর্যন্ত বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া বাঁধের পুরো অংশটি ভেঙে গেলে টাঙ্গাইল শহর, গালা, ঘারিন্দা, করটিয়া ইউনিয়নসহ বাসাইল উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর, ফসলি জমি, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মাদরাসা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

এ ছাড়া প্রতিনিয়ত শহর রক্ষা এই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে দেবে গেছে। গত বছর বন্যার সময় রামদেবপুর এলাকার বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে মাটি ফেলে কোনোরকমে বাঁধের রামদেবপুর অংশটিকে রক্ষা করেছিল। জানা যায়, টাঙ্গাইলের কালিহতী উপজেলার পৌলী নদী ওপর রেলসেতুর পাশেই টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ। আর এ বাঁধের পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি বালুর ঘাট।

স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল স্থানীয় লোকজনদের সাথে মিলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। আর এসব বালুর ঘাট থেকে প্রতিদিন শত শত বালুভর্তি ট্রাক যাতায়াত করায় চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধটি। সেই সাথে হুমকির মুখে পড়ছে। বন্যা শুরুর যেকোনো সময় ভাঙনের কবলে পড়তে পারে বাঁধটি। বাঁধের পাশেই স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন শত শত ট্রাক আসে আবার বালু ভর্তি করে এ সড়ক দিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের চলাচলের একটি মাত্র সড়ক এটি।

কিন্তু এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোকজন ও কিছু সন্ত্রাসী বাহিনীর কারণে আমরা কিছু বলতে পারি না। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের হুমকি দেয়। এই সড়কে বালুর ট্রাক চলাচলের কারণে আমাদের পায়ে হেঁটে যেতে হয়। কোনো মালামাল আনা নেওয়া করা যায় না। তা ছাড়া বাড়িঘর বালুতে নষ্ট হয়। জামাকাপড়, রান্না করা খাবার সব বালুতে নষ্ট হয়ে যায়। আমরা খুব কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছি। আইয়ুব আলী, আলেয়া বেগম, কাশেম, রেনু বেগম জানান, আমরা গরিব মানুষ, আমাদের কথা কি কেউ শোনে। এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারি না। ধুলাবালুতে বাড়িঘরে থাকা যায় না। আমরা তো এর প্রতিবাদ করতে পারি না। প্রশাসনের লোকজন আসে দু-একদিন বন্ধ থাকে। তারপর আবার বালুর ঘাট চালু করে। যারা বালুর ব্যবসা করে তাদের আমরা ভয় পাই। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস আমাদের নেই। আমাদের শত সমস্যা হলেও আমরা নিরবে সবকিছু মেনে নিয়েছি।

না প্রকাশ না করার শর্তে বালু মহালের কয়েকজন জানান, গত বছর মহেলা এলাকায় বাঁধের একটি অংশ ভেঙে গিয়েছিল। এ বছরও ভাঙবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা তো কাজ করি। মালিক যেভাবে কাজ করতে বলে আমরা তাই করি। নদীর পাড়ে যাদের জায়গা আছে তাদের জমি লিজ নিয়ে অনেকেই এই বালুর ব্যবসা করছে। আবার অনেকে নদী থেকে সরাসরি বালু উত্তোলন করছে। এখানে কেউ কিছু বলতে পারবে না।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জানার পর কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি বিষয়টি দেখার জন্য। টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের যেন কোনো ক্ষতি না হয় তার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.