ব্রেকিং নিউজ

টাঙ্গাইলে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ সিএনজি ফিলিং স্টেশন

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক : টাঙ্গাইলে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ সিএনজি ফিলিং স্টেশন। অভিনব কায়দায় জেলা প্রশাসনের নাকের ডগায়ই একটি চক্র গড়ে তুলেছে গ্যাসের স্টেশন। বিভিন্ন উপজেলায় কাভার্ডভ্যানে দেড় শতাধিক গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে পাইপ দিয়ে ডিস্পেন্সার মেশিনের মাধ্যমে গাড়িতে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস। ফায়ার সার্ভিস বলছে, সিলিন্ডারের মাধ্যমে গাড়িতে গ্যাস সরবরাহে ঘটতে পারে যে কোন সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

বিষয়টি নজরে নেই জানিয়ে জেলা প্রশাসক জানান, এটা পুরোপুরি অবৈধ। আর অবৈধ এ ব্যবসার মালিকরাও স্বীকার করেন তাদের কোনো অনুমিতপত্র নাই। দেশে প্রায় প্রতিদিন গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। অথচ এক শ্রেণির লোভী ব্যবসায়ী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অবিশ্বাস্যভাবে গড়ে তুলেছেন ভ্রাম্যমাণ সিএনজি ফিলিং স্টেশন। একটি কাভার্ডভ্যানে দেড় শতাধিক বড় বড় গ্যাস সিলিন্ডার রেখে পাইপ দিয়ে ডিসপেন্সার মেশিনের মাধ্যমে সিএনজি, প্রাইভেটকারসহ যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করছে। প্রতিটি কাভার্ডভ্যানে ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার গ্যাস থাকে। পাম্পে প্রতি সিএফটি সিএনজির মূল্য ৪০ টাকা হলেও তারা বিক্রি করছেন ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। কোনো নিয়ম কানুন না মেনে এভাবে গ্যাস বিক্রি করায় দুর্ঘটনার আশংকা স্থানীয়দের।

এলাকাবাসী বলেন, অনুমোদনহীনভাবে যদি তারা এভাবে ব্যবসা চালিয়ে যায় তাহলে এই এলাকায় বড় ধরনের একটা দুর্ঘটনা ঘটবে। আমাদের এলাকায় আগুন লাগুগ এটা আমরা চাই না। এদিকে পুলিশের নজরদারির কারণে হাইওয়েতে উঠে গ্যাস নিতে না পারা সিএনজি চালকরা এর সবচে বেশি লাভবান হয়েছেন। চালকরা বলেন, এখানে গ্যাস নিতে আসায় আমরা সুবিধা হয়, আমাদের হাইওয়েতে উঠতে হয় না।

সখিপুরের পেট্রোল পাম্পে গড়ে তোলা ভ্রাম্যমাণ সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন মালিক রেহানা বেগম স্বীকার করেন, গ্যাস বিক্রির কোনো বৈধ কাগজপত্র তার নেই। আর এটা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন, জেলা সিএনজি পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি। রেহানা বেগম বলেন, একদম নতুন ১৫ দিনও হয়নি, গ্যাসের ব্যাপারে আমাদের কোন কাগজপত্র নাই। তবে এটা ধরণের অন্যায়।

টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলছে, কাভার্ডভ্যান থেকে গাড়িতে সিএনজি বিক্রি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, যখনি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হবে সবগুলো একসাথে বিস্ফোরণ হবে। আশেপাশের সব পুড়বে মানুষও পুড়বে।

আর টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম জানালেন, ভ্রাম্যমাণ সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনের কোন তথ্য তার জানা নেই। এর কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, যদি অবৈধ হয় এটার ধারা দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে আমরা এর ব্যবস্থা নিব। অবৈধ এই ভ্রাম্যমাণ সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনের মালিকরা জানায়, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা এই অভিনব পদ্ধতির উদ্যোক্তা। মূলত তারা রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন থেকে বড় বড় সিলিন্ডারে গ্যাস কেনেন ৪৫ টাকা সিএফটি দরে। জেলার সখিপুরে দুটি, ভূঞাপুরে একটি এবং মধুপুরে দুটি ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন রয়েছে।

সূত্র: সময় নিউজ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.