ব্রেকিং নিউজ

‘নিউজ টাঙ্গাইল’এ সংবাদ প্রকাশের পর থানায় মামলা, ধর্ষক গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি: গত (২২এপ্রিল)সোমবার ‘‘টাঙ্গাইলে ছাত্রী ধর্ষণ, মিমাংসার টাকা আত্মমাধের অভিযোগ মাতাব্বরদের বিরুদ্ধে” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয় নিউজ টাঙ্গাইল অনলাইন পত্রিকায় ।

এ সংবাদটি কালিহাতী থানা পুলিশের নজরে আসলে মঙ্গলবার ওই ছাত্রীর পরিবারকে থানায় নিয়ে আসা হয়।পরে ওই দিন দুপুরে ছাত্রীটির বাবা বাদি হয়ে একটি ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আনোয়ার হোসেনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এর কিছুক্ষণ পর ওই আনোয়ারকে গ্রেফতার করে পুলিশ । ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী এলেঙ্গা পৌর এলাকার একটি মাদ্রাসায় ৩য় শ্রেণির ছাত্রী। আর ধর্ষক আনোয়ার হোসেন এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র। সে নেত্রকোনা মদনপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এলেঙ্গাতে হোটেল ব্যবসার পরিচালনা করে আসছে।

এ বিষয়ে ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, আমি এলেঙ্গাতে বাসা ভাড়া নিয়ে একটি সেলুন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। থানায় মামলা করার পর থেকে আমাকে বিভিন্ন ভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়টি সমাজে মিমাংসা করে দেয়ার পর সাংবাদিক ও থানা পুলিশ জেনে যাওয়ায় নেতারা বিভিন্ন ভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে আমাদেরকে গালাগালি করতেছে ছেলের বাবা-মা সবাই। তিনি এর কঠিন বিচার চান ।

এ বিষয়ে ওই ছাত্রীর মা বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে আমি রান্না করতেছি। আমার মেয়ে ও আরো একটি মেয়ে ওদের বাসায় টিভি দেখতে যায়। ওই মেয়েটিকে ঘর থেকে বের করে দেয় আনোয়ার। এর কিছুক্ষন পর ঘরের দরজা বন্ধ করে আমার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।এসময় মেয়ে চিৎকার দিলে আনোয়ার পালিয়ে যায়। পরে ওর মাকে বিষয়টি জানালে সে বিশ্বাস করেনি।পরে থানায় মামলা করতে চাইলে আনোয়ারে বাবা ও বড় ভাই স্থানীয় সমাজপতিদের জানালে তারা ৪০ হাজার টাকা মিমাংসা করে। পরে তারা আমাকে ২০হাজার টাকা দিয়ে আর ২০হাজার টাকা তারা নিয়ে যায়। মামলা করার পর থেকে আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে।আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এবিষয়ে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন,মামলা করার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের পর যদি এঘটনায় কারো জরিত থাকার বিষয় বের হয়ে আসে তাহলে তাকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। মেয়েটিকে ডাক্তারি পরিক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তাকে ধর্ষন করা হয়েছে নাকি ধর্ষন চেষ্টা করা হয়েছে রিপোর্ট পেলেই বুঝা যাবে। তবে মেয়েটির পরিবারকে সর্বত্ত নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি ।

এদিকে ওই ছাত্রীকে বিকেলে টাঙ্গাইল চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট আদালতে হাজির করে ২২ দারায় জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.