ব্রেকিং নিউজ

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত টাঙ্গাইলের কালিহাতীর ২ যুবকের দাফন সম্পন্ন

নিউজ ডেস্ক: গত ২ মে সৌদির সাকারা শহরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ঝগড়মান গ্রামের বাহাদুর ও কস্তুুরিপাড়ার মনির হোসেনের জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত ও দাফন আজ সকালে নিজ নিজ গ্রামের কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে।

আজ শুক্রবার এলাকাবাসীর চোখের জলে (৩১ মে) তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে আজ শুক্রবার ভোর ৬ টায় বাহাদুর ও মনির হোসেনের লাশ নিজ নিজ বাড়ি এসে পৌছলে এক হৃদয়-বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পুরো এলাকা শোকে আচ্ছন্ন হয়ে আকাশ-বাতাস যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী স্ত্রী, একমাত্র সন্তান প্রতিবন্ধী মেয়ে, মা, অসুস্থ বাবা ও এক বাক-প্রতিবন্ধী বোনের সংসারের অসহায়-দুঃস্থ প্রতিবন্ধি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাহাদুরের পরিবারের দিকে ছল-ছল দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখা ছাড়া শান্তনা দেওয়ার ভাষাও যেন খুঁজে পাচ্ছিলোনা যেনো কেউ।

বাহাদুরের প্রতিবন্ধী স্ত্রী রাশেদা বলেন, তুমি কি আশা নিইয়া বিদেশ গেলা আর আইলা কি হইয়া, এহন মেয়াডারে কেমনে বিয়া দিমু, আমগোরে সংসার কেমনে চালাইবা আল্লাহ, সুদি ঋণ কিবায় সুদাবো।

প্রতিবেশী রহমান মিয়া জানান, প্রতিবন্ধী বোন ও মেয়ের ভালো ঘরে বিয়ের ব্যবস্থা করার আশা নিয়েই বাহাদুর পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি প্রবাসে।

অপরদিকে আরেক নিহত কস্তুুরিপাড়ার মনির হোসেনের মা মমতাজ বলেন, আমার পোলার মুখে কথা নাই ক্যে, ওরে তোমরা ফিরাইয়্যা আইন্যা দেও । এক মাস আগে নিহত মনির হোসেনের বাবা ইরাক প্রবাসী শামছুল হকের বাম হাতের চারটি আঙ্গুল কাজ করার সময় মেশিনে কাটা পড়ে। বর্তমানে সে ইরাকে চিকিৎসাধীন আছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত দেব নাথ এ বিষয়ে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২ মে বৃহস্পতিবার সৌদির রাজধানী রিয়াদ থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরের সাকারা শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন বাংলাদেশী নিহত হয়। নিহতরা সবাই আল-হাবিব কোম্পানি ফর ট্রেডিং কমার্শিয়াল কন্ট্রাক্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজে সদ্য যোগদান করতে যাচ্ছিলেন। সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিলো।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.