ব্রেকিং নিউজ

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত টাঙ্গাইলের ২জনের বাড়িতে শোকের মাতম

নিজস্ব প্রতিনিধি : বৃহস্পতিবার (২মে) সৌদি রাজধানীর রিয়াদ থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার ও মদিনা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সাগরাত শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা টাঙ্গাইলের ২জনসহ ১০ জন নিহত হয়। দুর্ঘটনায় আল হাবিব কোম্পানি ফর ট্রেডিং কমার্সিয়াল কন্ট্রাক্টস লি. এর ১৭ জন শ্রমিক ছিলো। নিহতদের মধ্যে ২জনের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায়।

নিহতরা হলেন, উপজেলা ঝগড়মান গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে বাহাদুর (৩৫) ও ইরাক প্রবাসী কস্তুুরিপাড়া গ্রামের শামছুল হকের ছেলে মনির হোসেন (২০)। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহত বাহাদুর ছিলেন অসহায়-দুঃস্থ প্রতিবন্ধি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। প্রতিবন্ধী স্ত্রী, একমাত্র সন্তান প্রতিবন্ধী মেয়ে, মা অসুস্থ বাবা ও এক বাক-প্রতিবন্ধী বোন নিয়ে ছিলো বাহাদুরের সংসার ও অপর তিন বোন বিবাহিতা।

বাহাদুরের প্রতিবন্ধী স্ত্রী রাশেদা বলেন, আমাগোরে লাশটা আইন্যা দেন, আমগোরে সংসার এহন কেমনে চলবো, সুদি ঋণ কিবায় সুদাবো। কালিহাতী পৌরসভার মেয়র আলী আকবর জানান, বিষয়টি আমি জানতামনা। অতি দ্রুত পরিবারের সকলের জন্য প্রতিবন্ধী কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।

নিহত মনির হোসেনের মা মমতাজ বলেন, আমার পোলার লাশটা আইন্ন্যা দেন। একথা বলেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এক মাস আগে নিহত মনির হোসেনের বাবা ইরাক প্রবাসী শামছুল হক কাজ করার সময় মেশিনে বাম হাত গেলে চারটি আঙ্গুল কাটা পড়ে। বর্তমানে তিনি ইরাকে চিকিৎসাধীন আছেন। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় আহতদের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সুচিকিৎসার বিষয় নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ।

এছাড়া যাবতীয় আইনিপ্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য,বৃহস্পতিবার (২মে) সকালে একটি মিনিবাসে করে ওই ১৭ জন তাদের কর্মস্থলে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মিনিবাসে চালকসহ যাত্রী ছিল ১৭ জন। এদের মধ্যে ১০ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

গুরুতর আহত ২ জনকে চিকিৎসার জন্য রিয়াদে স্থানান্তরিত করা হয়। আহত ৩ জনকে শাকরা হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। অন্য ২ জনকে শাকরা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.