সখীপুরে গত ১০ বছর ধরে বাকেলা বেগমের ক্রয়কৃত কোটি টাকার জমি বেদখল

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু: টাঙ্গাইলের সখীপুরে বাকেলা বেগম (৫৫) তার ক্রয়কৃত প্রায় কোটি মুল্যের জমিতে যেতে পারছেনা গত ১০ বছর ধরে। ওই জমি দখলমুক্ত চেয়ে যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদে, তত্ত্বাবধায় সরকারের সময় আর্মি, টাঙ্গাইল আদালত ও সখীপুর থানায় করা মামলা ও স্থানীয়ভাবে প্রতিটি শালিশের রায় বাকেলার পক্ষে থাকলেও নলুয়া গ্রামের এলাকার মজনু মিয়া পেশি শক্তির বলে গত ১০ বছর ধরেই জমিটি দখল করে আছেন।

মামলার রায় পেয়ে বেশ করেকবার জমি দখলের চেষ্টা করলে উল্টো মার খেয়ে ফিরে এসেছেন বাকেলা বেগম, শাহজাহান ও তার পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বহুরিয়া মৌজার দেওদিঘী বাজার এলাকায়। এ নিয়ে গত ২০০২ সালের ২০ নভেম্বর যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের শালিশে জমির কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করে ওই সময়ের ইউপি চেয়ারম্যান বর্তমান সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ বাকেলা ও শাহজাহানের পক্ষেই রায় দেন। ওই রায়ে দখলদার মজনু মিয়া চারদিনের মধ্যে তার ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়ে বাকেলার জমি দখলমুক্ত করে দেওয়ার অঙ্গিকার নামায় স্বাক্ষরও করেন। কিন্তু সে কাজ আজও করেনি। মজনু মিয়া আগের মতই ওই জমিতেই বহাল তবিয়তে আছেন ।

জানা যায়, ১৯৯৯ সালে শরাফত আলীর স্ত্রী বাকেলা বেগম তার সহোদর বোন আনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে বহুরিয়া মৌজার ,১২১৪ দাগের, এসএ ৫৮নং খতিয়ানে নলুয়া-ঢাকা সড়ক ঘেঁষে দেওদিঘী বাজারের উত্তরে ১৬ শতাংশ এবং শাহজাহান মিয়া আরো ১৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। একই সময় ওই একই দাগের বেড়বাড়ী গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের কাছ থেকে নলুয়া গ্রামের মুন্না মিয়ার ছেলে মজনু মিয়াও ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পূর্বে থেকে বাকেলা বেগম ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করতেন।

এ সুযোগে ২০০০ সালে মজনু মিয়া তার ক্রয়কৃত ৬ শতাংশ জমি ছাড়াও বাকেলা ও শাহজাহানের ক্রয়কৃত ৩২ শতাংশ জমিতে জোর পূর্বক বাসা বাড়ি করে বসেন। এরপর কয়েক দফায় গত ১০ বছরে দখল মুক্ত চেয়ে বাকেলা বেগম ও শাহজাহান মিয়া- টাঙ্গাইল আদালতে, তত্ত¦বধায়ক সরকারের আর্মি, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে এবং সখীপুর থানায় মামলা করেন। প্রতিটি মামলার রায় তাদের পক্ষে আসলেও দখলে যেতে পারেনি তারা। গত ২০১৮ সালে পুনরায় ওই জমিটি দখলে যেতে চাইলে মজনু মিয়া ও তার লোকজন বাকেলা বেগম ও শাহজাহানের লোকজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

এ ঘটনায় সখীপুর থানায় মামলা করেন বাকেলা। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলোনা। উল্টো বাকেলা বেগম ও শাহজাহানের লোকজনের নামে মারপিটের মামলা করেন মজনু মিয়া। এতে জেল খাটেন বাকেলার ভাই আবদুস সালাম, আবদুল করিম, ভাগ্নে রুকন মিয়া এবং কামাল হোসেন।

এ ব্যাপারে বাকেলা বেগম ও শাহজাহান মিয়া বলেন- ক্রয়কৃত প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ওই জমিটি গত ১০ বছর ধরে মজনু মিয়া জোরপূর্বক দখল করে বাসাবাড়ি করে বসবাস করছেন । জমিতে গেলেই তাদের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে।
অন্যের জমি দখল করে বাসাবাড়ি নির্মাণের ব্যাপারে অভিযুক্ত মজনু মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয়ে পেয়ে কোন এ ব্যাপারে উত্তর দেননি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.