ব্রেকিং নিউজ

টাঙ্গাইলে ধর্ষণের শিকার পাকিস্তানি কিশোরীর ভিসার মেয়াদ শেষ

জন্মের পর প্রথমবার বাবার বাড়ি বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হন পাকিস্তানি কিশোরী। ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া নিয়ে শঙ্কা কাজ করলেও বিচারের আশায় বাংলাদেশে থাকতে চান তারা।

ছয় মাস মেয়াদি ভিসা নিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসেন পাকিস্তানি ওই মা ও কিশোরী। রোববার (৫ মে) ছিল ছয় মাস মেয়াদের ভিসার শেষদিন। তবে মেয়েকে ধর্ষণের চূড়ান্ত বিচারের রায় শুনতে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। রোববার ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন নিয়ে অ্যাম্বাসিতে যান তারা।

এরই মধ্যে পাকিস্তানি কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত মামলার প্রধান আসামিসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যোগ হয়েছে অপরাধ স্বীকার করে ধর্ষকের দেয়া জবানবন্দি।

গত ১২ নভেম্বর ছয় মাসের ভিসা নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন পাকিস্তানি নাগরিক ও নিউ করাচি এলাকার বাসিন্দা পাকিস্তানি মা ও তার কিশোরী মেয়ে। ওই কিশোরী নিউ করাচির হাদিকা তুলিব ফান্ড স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

২০ বছর আগে টাঙ্গাইলের উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা পোশাক ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে পাকিস্তানি ওই নারীর বিয়ে হয়। বেশ কয়েক বছর একাই কাটে তাদের সংসার। পরে তাদের সংসারে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। ১৫ বছর আগে ওই নারী জানতে পারেন হুমায়ুন আঁততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে এ খবর পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তার স্বামী জীবিত এবং পাকিস্তানেই আছেন বলে জানতে পারেন তিনি।

গত বছর খবর পান বাংলাদেশে বসবাসকারী ওই নারীর শাশুড়ি খুবই অসুস্থ। মেয়েরও খুব ইচ্ছা ছিল দাদিকে দেখার। তাই ছয় মাসের ভিসা করে মেয়েকে নিয়ে শাশুড়িকে দেখতে স্বামীর বাড়ি বেড়াতে আসেন। বাংলাদেশে এসে টাঙ্গাইলের উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ভাসুর আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িতে উঠেন তারা। এখানে ওঠার পর থেকে আরেক ভাসুর আবুল হোসেনের বখাটে ছেলে আল-আমিন তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে। বেশ কয়েকবার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ ঘটনার পরপরই পারিবারিকভাবে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়। তবে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসার খবর পেয়ে বখাটে আল-আমিন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ১৬ এপ্রিল রাতে একদল সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় তার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায় আল-আমিন। পরে মেয়েকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এরপরও মেয়েকে ফিরে পেতে নানাভাবে চেষ্টা চালান পাকিস্তানি মা।

 

পুলিশ জানায়, ১৭ এপ্রিল আল-আমিনসহ তিনজনকে আসামি করে গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন পাকিস্তানি কিশোরীর মা। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামির মা আনোয়ারা বেগমকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়। আসামির মায়ের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহিষাকান্দি মোড়ের একটি বাসা থেকে ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পরে কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৩ এপ্রিল কুড়িগ্রাম থেকে আল-আমিনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব সদস্যরা।

এরপর আল-আমিনকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে পাঠান। পাশাপাশি টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন মাহবুবের কাছে ২২ ধারার জবানবন্দি দেয় ধর্ষণের শিকার পাকিস্তানি কিশোরী। পরে আল-আমিনের ভাই সুমনকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার করা হয়।

২৪ এপ্রিল আল-আমিন এবং তার ভাই সুমনকে আদালতের হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আল-আমিন। সেই সঙ্গে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

রিমান্ড শেষে ২৯ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাপপুর আমলি আদালতের বিচারক আকরামুল ইসলামের আদালতে তাদের হাজির করা হয়। সেখানে আল-আমিন অপরাধ শিকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে বিচারক তাদের দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোপালপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সাদিকুর রহমান বলেন, রিমান্ড শেষে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে রোববার পাকিস্তানি মা-মেয়ের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে। ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন নিয়ে অ্যাম্বাসিতে গেছেন তারা।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, পাকিস্তানি কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে ফলাফলে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.