ব্রেকিং নিউজ :

মির্জাপুরে বনের গাছ কাটা মামলায় সখীপুরের যুবলীগ নেতাসহ দুই ঠিকাদার জেল হাজতে

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: বন বিভাগের গাছ কাটা মামলায় যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদকসহ দুই ঠিকাদারকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন বন বিভাগের আদালতের বিচারক। আজ বুধবার টাঙ্গাইল জেলা বন বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দুই ঠিকাদার হাজিরা দিতে এলে বিচারক তাদের জামিনের আবেদন নামজ্ঞুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামীরা হলেন শেখ ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী ও টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন সাথী (৫০) এবং তার সহযোগি পার্টনার মো. আব্দুল হালিম(৫২)। যুবলীগ নেতা মো. দেলোয়ার হোসেন সাথীর পিতার নাম মো. রবি মিয়া, বাড়ি সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে এবং মো. আব্দুল হালিমের পিতার নাম সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসেন, বাড়ি সখীপুর উপজেলার বহেরাতৈল ইউনিয়নের খামারচারা গ্রামে।

মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল রেঞ্জ অফিসের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর আই আর আই ডিপি-২ এর অর্থায়নে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিসের অধিনে আজগানা ইউনিয়নের আজগানা-মজিদপুর ১৮শ মিটার রাস্তা উন্নয়নের জন্য এক কোটি ৩২ লাখ ৯৬৬ টাকার কাজ পান শেখ ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী যুবলীগ নেতা মো. দেলোয়ার হোসেন। রাস্তাটি সরকারী বনের ভিতর হওয়ায় বন বিভাগ কাজ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।

বন বিভাগের কর্মকর্তাগন জানায়, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশনায় এবং বন আইনে বন বিভাগের গাছ কেটে বনের ভিতর দিয়ে রাস্তা করার কোন সুযোগ নেই্ এছাড়া বনের ভিতর দিয়ে রাস্তা করতে হলে অবশ্যই আন্তঃমন্ত্রনালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন বাধ্যতামুলক। কিন্ত আজগানা-মজিদপুর রাস্তাটি বন বিভাগের সরকারী বনের ভিতর হওয়ায় শেখ ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী ও যুবলীগ নেতা মো. দেলোয়ার হোসেন সাথী ও তার সহযোগিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং সরকারী দলের প্রভাব বিস্তার করে প্রশাসেনর কোন অনুমোদন ছাড়াই বনের গাছ কেটে বিক্রি করে রাস্তা নির্মান করার চেষ্টা করেন। বন বিভাগের আজগানা অফিসের বিট কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন বাদী হয়ে অধ্যাদেশ আইনে গত ২১ এপ্রিল শেখ ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী যুবলীগ নেতা মো. দেলোয়ার হোসেন সাথী ও মো. আব্দুল হালিমকে আসামী করে টাঙ্গাইলের বন বিভাগের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলামের আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আদালত মির্জাপুর ও সখীপুর থানায় গ্রেফতারী পারোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতারী পারোয়ানা জারি হওয়ায় আজ বুধবার দেলোয়ার ও আব্দুল হালিম বন আদালতে হাজিরা দিতে এলে বিচারক মো. আরিফুল ইসলাম তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে আজগানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রফিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শেখ ট্রেডাসের মালিক দেলোয়ার হোসেন ও আব্দুল হালিম তার কাছে অভিযোগ করেছেন বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদের কাছে মোটা অংকের ঘুষ দাবী করেছিল। তাদের চাহিদা মত টাকা না দেওয়ায় ঠিকাদারের নামে বনের গাছ কাটার একটি মিথ্যা মামলা দিয়েছে যার কোন ভিত্তি নেই।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয়ের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় আজগানা ইউনিয়নের অবহেলিত পাহাড়ি এলাকার উন্নয়নে আজগানা-মজিদপুর রাস্তা উন্নয়নের প্রায় এক কোটি ৩২ লাখ ৯৬৬ টাকার কাজ হচ্ছে। ঠিকাদার ও তাদের লোকজন বন বিভাগের কোন গাছ কাটেনি। বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা ঠিকাদারের নামে মিথ্য মামলা দিয়েছে

"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.