টাঙ্গাইলের জাহালমের মামলায় দুদকের আবেদন খারিজ

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, ব্যারিস্টার আব্দুলাহ আল মাহমুদ বাশার।

হাইকোর্টের দেয়া স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ এ–সংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে দুদকের করা আবেদন খারিজ করে সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দিয়েছেন।

আদালতে আজ জাহালমের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন, তার সঙ্গে ছিলেন অমিত দাস গুপ্ত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

ব্যারিস্টার আব্দুলাহ আল মাহমুদ বাশার জানান, নিরপরাধ পাটকলশ্রমিক জাহালমের কারাভোগ নিয়ে হাইকোর্টের যে বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত রুল জারি করেছিলেন, সেই বেঞ্চেই মামলার কার্যক্রম চলবে।

জাহালমের কারাভোগ নিয়ে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দিয়েছিলেন। তাতে কারাগার থেকে মুক্তি মিলেছিল টাঙ্গাইলের জাহালমের।

অমিত দাশগুপ্ত বলেন, দুদকের আবেদন খারিজ হওয়ায় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে, অর্থাৎ যে বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুল দিয়েছিলেন, সেই বেঞ্চে মামলাটির কার্যক্রম চলবে। শুনানির দিন ধার্যের জন্য শিগগিরই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আবেদন জানানো হবে বলে জানান তিনি।

গত ২৩ এপ্রিল জাহালমের মামলার সব কার্যক্রম ১৩ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বারজজ আদালত।

দুর্নীতি-সংক্রান্ত মামলা শুনানির ক্ষেত্রে হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে গত ২৩ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগে বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছিলেন।

এ বিষয়ে আজ আপিল বিভাগে শুনানি নিয়ে দুদকের আবেদন খারিজ করলেন আপিল বিভাগ।

এর আগে গত ১৭ এপ্রিল নিরীহ জাহালমের কারাভোগ নিয়ে দুদকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন তলব করেন হাইকোর্ট। ২ মে পরবর্তী শুনানির নতুন তারিখ ঠিক করেছিলেন আদালত। চেম্বার আদালতে মামলার কাযক্রম স্থগিত হয়ে যাওয়াই এ বিষয়ে ওই দিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।

সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর ধরে কারাগারে কাটাতে হয় টাঙ্গাইলের জাহালমকে।

এ বিষয়ে গত বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। সেটি সেদিন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত।

এরপর ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে দুদকের ব্যাখ্যা জানতে কমিশনের চেয়ারম্যানের মনোনীত প্রতিনিধিসহ চারজনকে তলব করেন। কারাগারে থাকা ‘ভুল’ আসামি জাহালমকে কেন অব্যাহতি দেয়া হবে না এবং তাকে মুক্তি দিতে কেন ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বণোদিত একটি রুলও জারি করা হয়।

এরপর দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দুঃখ প্রকাশ করে ভুলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আদালতের আদেশে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।

পাটকল শ্রমিক জাহালমের তিন বছর কারাগারে থাকার ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতি ছিল কি না- তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি করে দুদক। তবে, হাইকোর্টে দুদকের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের ওপর দায় চাপিয়ে বলা হয়, ব্যাংকগুলোর অনুসন্ধান প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করেই দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযোগপত্র দিয়েছিলেন।

কিন্তু দুদকের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে ৩৩টি মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর), অভিযোগপত্রসহ (সিএস) যাবতীয় নথি তলব করেন হাইকোর্ট। দুদকের কার্যক্রমে উষ্মা প্রকাশ করে আদালত বলে, ইঁদুর ধরতে না পারলে সেই বিড়ালের প্রয়োজন নেই।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.