সখীপুরে মুড়ি বেচে সংসার চালাচ্ছেনশহরভানুসহ অনেকেই

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইফতারিতে মুড়ি ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। আবার সেই মুড়ি যদি হয় হাতে ভাজা। তাহলে তো কথাই নেই। হাতে ভাজা মুড়ির স্বাদ অন্যরকম। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়, হাতে ভাজা মুড়ি দেশি মুরগির মতো আর মেশিনের মাধ্যমে কারখানায় তৈরি মুড়ি পোলট্রি মুরগির মতো। ইফতারিতে মুড়ির স্বাদ-বেস্বাদ শীর্ষক অনানুষ্ঠানিক টেবিল টকশোতে হাতে ভাজা মুড়ি নিয়ে উপরিউক্ত কথাগুলো বলেন, সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বাবুল আকতার।

টাঙ্গাইলের সখীপুরের কয়েকটি গ্রামে তাঁদের নিজেদের বাড়িতে গড়ে তুলেছেন হাতে ভাজা মুড়ির কারখানা। এসব হাতে ভাজা মুড়ি সখীপুর শহরের রুচিবান মানুষের চাহিদা মিটিয়ে জেলা শহর টাঙ্গাইল ও রাজধানী ঢাকায় রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষ করে এ ধরনের মুড়ির চাহিদা রোজার মাসে বেশি থাকে। উপজেলার বেড়বাড়, রতনপুর, কৈয়ামধু, হাতিবান্ধা কুমড়াঝুড়ি ও কালিদাস গ্রামে স্বল্প আয়ের লোকজন এ ধরনের মুড়ি হাতে ভেজে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।

উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে বেড়বাড়ী গ্রাম। ওই গ্রামকে সখীপুরের অনেকেই মুড়ির গ্রাম হিসেবেই চেনে। গত সোমবার সকালে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায় তাঁরা কীভাবে কোনো রাসায়নিক পদার্থ ছাড়াই দেশি মুড়ি তৈরি ভাজছেন।ওই গ্রামের ৫০ বছর বয়সী শহরভানু ও তাঁর ছেলের বউ আর্জিনা বেগম মুড়ি ভাজছেন। পাশাপাশি দুটি চুলায় একটিতে ছেলের বউ মাটির তৈরি পাতিলে চাল ভাজছেন। চালের সঙ্গে লবনের পানি মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরেক চুলায় সেখানেও বড় একটি পাতিলে বালু গরম করা হচ্ছে। বালু গরমের কাজটি করছেন শাশুড়ি নুরভানু। এক পর্যায়ে চাল ও আরেক পাতিলের বালু গরম হলে ওই চাল বালুর ওই বড় পাতিলে ঢেলে দেওয়া হয়। নুরভানু ওই বালুর পাতিলটি বিশেষ কায়দায় ঘোরাতে থাকে। ৩০ সেকেন্ডের ভেতর বড় বালুর পাতিলে চাল ফোটে মুড়ি তৈরি হয়। সঙ্গে সঙ্গে হাজার ফুড়ের একটি পাতিলে (স্থানীয় ভাষায় জাঞ্জর) বালুসহ মুড়ি ঢেলে দিলে ওই জাঞ্জরে মুড়িগুলো আটকে পড়ে আর বালুগুলো ফুড়ের ভেতর দিয়ে নিচের পাতিলে ঝরে পড়ে। এভাবেই হাতে ভেজে মুড়ি তৈরি হয়।

এ ব্যাপারে শহরভানুর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এক কেজি চালে ৯০০ গ্রাম মুড়ি হয়। ভোর থেকে বেলা চারটা পর্যন্ত এক তালে মুড়ি ভেজে গেলে একদিনে প্রায় দুই মণ চালের মুড়ি ভাজা যায়। দিনে দুইজনে মিলে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা আয় করা যায়। তবে মুড়ি ভাজায় অনেক পরিশ্রম।

তারপরেও সংসার চালাতে গেলে পরিশ্রম করতেই হবে। নুরভানুর ছেলের বউ আর্জিনা বেগম বলেন, বাজারের কারখানার মুড়িতে ভেজাল আছে শুনেছি তবে আমাদের হাতে ভাজা মুড়িতে কোনো ভেজাল নেই। শহরভানুর বাড়ির উত্তর পাশে কবিতাদের বাড়ি। কবিতার স্বামী অনেক দেনা করে বিদেশ গেছেন। বিদেশেও তেমন সুবিধা করতে পারছে না। কবিতা তাঁর শাশুড়িকে নিয়ে মুড়ি ভেজে সংসার চালাচ্ছেন। কবিতা বলেন, আমার স্বামী টাকা পাঠাতে পারছে না। এ অবস্থায় সংসার চালানো ও দুই ছেলে মেয়ের পড়াশোনা করছে। ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তি তো আছেই।

সখীপুরের মুড়ি ব্যবসায়ী তমিজ উদ্দিন বলেন, উপজেলায় বর্তমানে বেড়বাড়ী, রতনপুর, কালিদাস ও কৈয়ামধু, গ্রামে হাতে ভাজা মুড়ির বাড়ি বাড়ি কারখানা গড়ে উঠেছে। ওই গ্রাম থেকে মুড়ি কিনে টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা শহরের বড় বড় ব্যবসায়ীর গুদামে পাঠিয়ে দেই। তিনি বলেন, হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা সারা বছর থাকলেও রমজানে এর পাঁচগুণ চাহিদা বাড়ে। ফলে রমজান মাসে লাভ হলেও অন্য মাসে চাহিদা তেমন না থাকায় অনেকেই হাতে ভাজা মুড়ির ভাজার কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল জেলার খবর সবার আগে জানতে ভিজিট করুন www.newstangail.com। ফেসবুকে দ্রুত আপডেট মিস করতে না চাইলে এখনই News Tangail ফ্যান পেইজে (লিংক) Like দিন এবং Follow বাটনে ক্লিক করে Favourite করুন। এর ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে সয়ংক্রিয়ভাবে নিউজ আপডেট পৌঁছে যাবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.