ব্রেকিং নিউজ

ধান কেটে না দিয়ে খরচ কমানো প্রয়োজন!

এনায়েত করিম বিজয় : কৃষকের সোনালী ধানের বিষয়ে এই প্রথম সব চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সারাদেশে। আর এই আলোচনা চলছে কি কারণে সেটা হয়তো সবারই জানা। শ্রমিক সংকট, শ্রমিকের মজুরি বেশি এবং ধানের দাম কম থাকায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। বিভিন্নস্থানে কৃষকের নিজ পাকা ধান ক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃষকরা ধানের কম দাম নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে মানববন্ধন, রাস্তায় ধান ছড়িয়ে প্রতিবাদসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্নস্থানে ডিসি, ইউএনও, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজনকে কৃষকের ধান কেটে দিতেও দেখা গেছে। ধান কেটে দিলেই কি কৃষকের সমাধান হবে?

ধান কাটা একজন দিনমজুরের কাজ। আর এটি তারই হক। তাই ধান কেটে না দিয়ে তাদের কিভাবে ধান আবাদে খরচ কম হয় সেই বিষয়টি নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।

সরকার প্রতি বছর ন্যায্য মূল্যে ধান কিনেন সীমিত। তাতে কৃষকের বেশির ভাগ ধান গোলাতেই রয়ে যায়। আর ওই সময়টাতে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পায় না। তাই কৃষকরা যাতে সব সময় ধানের ন্যায্য মূল্য পায় সেই বিষয়টিও সরকারকে দেখা প্রয়োজন।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ইরি-বোরো চাষে এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমি প্রস্তুত করতে অন্তত তিনজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ওই সময় শ্রমিকের মজুরি থাকে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা করে। শ্রমিকের খাবারসহ দুই হাজার টাকার ওপরে খরচ হয়। ট্রাক্টর বাবদ খরচ হয় প্রায় ৮শ’ থেকে এক হাজার টাকা। বীজ ও বীজতলা প্রস্তুত করতে শ্রমিকের মূল্যসহ এক হাজার টাকার ওপরে খরচ হয়। ধানের চারা রোপণ করতে তিনজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। এই তিনজন শ্রমিকের খাবারসহ দুই হাজার থেকে ২২শ’ টাকা খরচ হয়। এরপর ধানক্ষেত থেকে ঘাস পরিষ্কার (নিরানি) করতে অন্তত দুইজন শ্রমিক লাগে। এই দুইজন শ্রমিকের খাবারসহ ১৫শ’ টাকার মতো খরচ হয়ে থাকে। ধান কাটতে আবার অন্তত চারজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি এই সময়ে প্রতিজন ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা পর্যন্ত থাকে। এই চারজন শ্রমিকের খাবারসহ চার হাজার টাকার ওপরে খরচ হয় দিনে। অপরদিকে সার বাবদ ১৫শ’ থেকে ১৮শ’ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে বীজতলা প্রস্তুতসহ কৃষকের সোনালি ধান গোলায় তুলতে অন্তত ১৪ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। আর এই ১৪ জন শ্রমিকের খাবারসহ সব মিলিয়ে কৃষকের খরচ হচ্ছে অন্তত সাড়ে ১৩ হাজার টাকার মতো।

এদিকে ওই এক বিঘা (৩৩ শতাংশ ) জমিতে ধান হচ্ছে ১০ থেকে ১৩ মণ। ধানের বর্তমান মূল্য ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা করে। ৫৫০ টাকা হিসেবে ১৩ মণ ধানের মূল্য সাত হাজার ১৫০ টাকা। ১৩ হাজার টাকা খরচ হলে এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে কৃষকের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে। এতে করে কৃষকরা ধান আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

একাধিক কৃষকরা জানান, বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ায় শ্রমিকের মজুরিও বেড়ে গেছে। তারা শ্রমিকের বিকল্প হিসেবে ধান কাটা ও মাড়াই যন্ত্র প্রতিটি এলাকায় দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.