টাঙ্গাইলে ইজ্জত বাঁচাতে কলেজছাত্রীর দোতলা থেকে লাফ

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক কলেজ ছাত্রীকে অফিসে ডেকে নেন একটি এনজিওর এরিয়া ম্যানেজার। অফিসে অন্য কোনো স্টাফ না থাকায় তার সন্দেহ হয়।

এ সময় তিনি বের হতে চাইলে ম্যানেজার অফিসের দরজা আটকাতে চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তিনি অফিস থেকে বের হতে চাইলেও নিচে নামার গেট বন্ধ পান। এ সময় ম্যানেজার তার পিছু নিলে মেয়েটি ইজ্জত বাঁচাতে দোতলা থেকে লাফিয়ে নিচে পড়েন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন তার কোমড়ের হাড় ভেঙে গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে আজ রবিবার সকাল সাড়ে এগারটার দিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা বাজারের আব্দুল হকের তিনতলা ভবনে।

যুগবাণী নামের এক এনজিওর এরিয়া ম্যানেজার তানজিরু হাসান জীবন কালেজছাত্রীকে চাকরি দেয়ার নামে তার অফিস কক্ষে ডেকে নেন। তিনি এ বছর টাঙ্গাইল কুমুদিনী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। তার বাড়ি মির্জাপুরের জামুর্কী ইউনিয়নের চুকুরীয়া গ্রামে।

কলেজছাত্রীকে গুরুতর অবস্থায় কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মিথুন রায় জানিয়েছেন, দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ায় কলেজছাত্রীর কোমরের হাড় ভেঙে গেছে।

জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা বাজারে অবস্থিত যুগবাণী সমাজকল্যাণ নামে এক এনজিওর এরিয়া ম্যানেজার তানজিরু হাসান জীবনের সঙ্গে টাঙ্গাইলে যাওয়ার সময় বাসে কলেজছাত্রীর পরিচয় হয়। পরিচয় হওয়ার পর জীবন নিজেকে এশিয়া ব্যাংকের বড় কর্মকর্তার পরিচয় দেন।

তাকে তার অফিসে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে যোগাযোগ বেড়ে যায়। রবিবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে জীবন ওই এনজিওর এক মহিলা স্টাফকে দিয়ে তাকে তার অফিসে ডেকে নেন। সেখানে তার অফিস কক্ষে জীবন ছাড়া অন্য কেউ না থাকায় তার সন্দেহ হয়। এসময় অন্য কোন অফিস স্টাফ না থাকায় তিনি অফিস কক্ষ থেকে বের হতে চাইলে জীবন তার কক্ষের দরজা আটকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায় কলেজছাত্রী কক্ষ থেকে বের হয়ে আসলেও নিচে নামার দোতলার গেটটিও বন্ধ পান। এসময় জীবন তার পিছু নিলে জীবনের অসত উদ্দেশ্য আঁচ করতে পেরে তিনি ইজ্জত বাঁচাতে দোতলা থেকে লাফিয়ে নিচে পড়েন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। এসময় জীবন পালিয়ে যান।

মির্জাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি প্রেম ঘটিত বা শ্লীলতাহানীর চেষ্টার ঘটনা হতে পারে। তবে মেয়ে অভিযোগ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার বুঝা যাবে বচলে তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.