টাঙ্গাইল মহাসড়কে স্বস্তির সুবাতাস

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানজটের শঙ্কার পরিবর্তে বইছে স্বস্তির সুবাতাস। এতদিন ঈদযাত্রায় এ সড়কে যানজটের যে চরম ভোগান্তি সইতে হয়েছে এবার আর সেটা হবে না বলে দাবি তুলেছেন মহাসড়ক পরিচালনায় নিয়োজিতরা।

এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গাজীপুরের ভোগড়া থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার ফোরলেনের কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আর মহাসড়কে নবনির্মিত তিনটি আন্ডারপাসের ব্যবহারও শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে। এছাড়াও মহাসড়কের দুইদিকের বর্ধিত কাজেরও প্রায় ৬০ ভাগ সমাপ্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।

জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলাসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহের ২৬টি জেলার অন্তত ৯০টি সড়কের যানবাহন চলাচল করে থাকে। এই মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ২০১৩ সালে দুই লেনের এই মহাসড়কটি চার লেনে উন্নিতকরণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। ২০১৬ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে দুটি সার্ভিস লেন, ২৯টি নতুন ব্রিজ, চারটি ফ্লাইওভার ও ১৪টি আন্ডারপাস সংযুক্ত হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তবে মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের রাবনা ফ্লাইওভার ও করটিয়া আন্ডারপাসের অব্যাহত মেরামত কাজ ও জামুর্কি বাজার এলাকা ও বাঐখোলা এলাকার প্রায় ৪শ মিটার সড়কে ছোট ছোট গর্ত থাকায় যানজটের শঙ্কামুক্ত নন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। ১১টি আন্ডারপাসের মধ্যে যান চলাচলের জন্য খোলা হয়েছে মাত্র ৩টি আন্ডারপাস। এছাড়াও ওই শঙ্কা আরও তীব্রতর করেছে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তের টোল প্লাজায় যান্ত্রিক ত্রুটি। যে সমস্যাকে ঘিরে রয়েছে দীর্ঘ যানজটের শঙ্কা।

সড়ক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মীর আখতার লিমিটেডের বাঐখোলা, করটিয়া ও তারটিয়া আন্ডারপাস নির্মাণের দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী এহ্সান আহমেদ রাজু জানান, ঈদের জন্য তিনটি আন্ডারপাসের দুটি লেন খুলে দেয়া হয়েছে। এর একটি ঢাকা থেকে ঘরমুখো যাত্রীবাহী যানবাহনের চলাচলের জন্য অপর লেনটি খোলা রাখা হয়েছে ঢাকা ফেরত যানবাহনের জন্য। ফলে আশা করা যায় কোনো ধরনের যানজট তৈরি হবে না। তবে যেহেতু আন্ডারপাসগুলো পুরোপুরি তৈরি হয়নি তাই যান চলাচলে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক চারলেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক অমিত কুমার চক্রবর্তী জানান, মহাসড়কে পরিবহন চলাচলের বর্তমান যে চিত্র, তাতে এবারের ঈদযাত্রায় যানজটের তেমন কোনো শঙ্কা নেই বললেই চলে। এছাড়াও মহাসড়কে ছোট খাটো যে সমস্যাগুলো রয়েছে তা দু’এক দিনের মধ্যে সমাধান করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিবিএ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজার সফটওয়্যার সিস্টেম সচল রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এ সিস্টেমের দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা ২৪ ঘণ্টা তাদের দায়িত্ব পালন করবে। সে কারণে সেতু পূর্ব প্রান্তে ঈদে যানজটের তেমন আশংকা নেই।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিমুল এহ্সান বলেন, ধীরগতির যান চলাচলের সড়ক তৈরির ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা ও অধিগ্রহণকৃত জমিতে পিডিবির ইলেকট্রিক পিলার সরানোর কাজ দেরি হওয়ায় আমাদের কাজের গতি বাড়াতে পারছি না। ইতোমধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নির্মাণাধীন ১১টি আন্ডারপাসের মধ্যে ঘারিন্দা, দেওহাটা ও কালিয়াকৈর আন্ডারপাস যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। বাকিগুলোও খুব দ্রুত খুলে দেয়া হবে। আশা করি সড়কের কারণে এবারের ঈদে যানজট সৃষ্টি হবে না।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে এবারের ঈদযাত্রা পথে নিয়োজিত থাকবে সাত শতাধিক পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি যানজটমুক্ত মহাসড়ক রাখতে কাজ করবে আনসার সদস্যরাও। এছাড়াও ছিনতাই ও অজ্ঞান পার্টির খপ্পরমুক্ত যাত্রী চলাচলের নিশ্চয়তায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি মহাসড়কে সার্বক্ষণিক র্যাব ও সাদা পোশাকের ৪০টি ভ্রাম্যমাণ দল দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.