ব্রেকিং নিউজ

মধুপুরের আনারস কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারস অধিক লাভের আশায় পরিপক্ক হওয়ার আগেই কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আনারস পরিপক্ক না হলেও কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে খুব সহজেই তা হলুদ বর্ণ ধারণ করছে। দেখতে ঠিক পাকার মতো মনে হলেও বাস্তবিক অর্থে আনারসগুলো আরও তিন থেকে চার মাস পর পরিপক্ব হবে। এসব আনারস কেমিক্যাল দিয়ে পাকানোর ফলে আনারসের আসল স্বাদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং এগুলো খেলে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

জানা যায়, জেলার মধুপুর ও ঘাটাইলের আশপাশের বাজারগুলোতে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে এসব বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত আনারস।

সরেজমিনে মধুপুরের মোটের বাজার এলাকার আনারস চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব কাঁচা আনারস পাকানোর জন্যে প্রতি ১৬ লিটার পানিতে ৪টা রাইপেন-১৫, লবণ ও পটাশ সারের মিশ্রণ ব্যবহার করে কয়েক দিন খেতের ভিতর রেখে দেওয়া হয়। বিস্বাদ হওয়ার কারণে কেউ এগুলো চুরি পর্যন্ত করে না।

আরো জানা যায়, কেমিক্যাল একবার দেওয়ার পর না পাকলে পুনরায় আবার দেওয়া হয়। দুই দফায় আনারসে কেমিক্যাল দেওয়ার ফলে অপরিপক্ক আনারসও হলুদ রং ধারণ করে। চাষি ও কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা বলেন, আনারস পাকানোর জন্য রাইপেন-১৫-এর পাশাপাশি হারবেস্ট, প্রমোট, সারাগোল্ড, ইটিপ্যাস, এলপেনসহ লবণ ও পটাশ সারের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আউশনারা এলাকার এক কেমিক্যাল ব্যবসায়ী বলেন, আমরাও জানি কেমিক্যাল ব্যবহার করা ঠিক না। কিন্তু চাষিদের চাহিদা বেশি থাকায় আমাদের বিক্রি করতেই হয়। আমরা বিক্রি না করলে কি হবে কেউ না কেউ বিক্রি করেই। একই এলাকার আনারস চাষি সাহাদত হোসেন বলেন, মেডিসিন ছাড়া আনারস বাজারে তোলার পর তা বিক্রি হয় না।

আমরা চাষিরা ব্যবহার না করেই বা কি করব? আমরা তো অসহায়! কেমিক্যাল ছাড়া আনারস কেনে না কেউ, কেমিক্যাল ছাড়া আনারস দেখতে ভালো লাগে না, একটু চাপ লাগলেই গলে যায়। আর মেডিসিন দেওয়া আনারস দেখতে হলুদ-পাকার মতো, বাজারে এর চাহিদাও বেশি। তাই আমরা ওটাই কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠাই।

এলাকাবাসীর দাবি, যে হারে কাঁচা আনারস ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে মধুপুরের আনারসের যে সুনাম তা খুব অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে। তাই এখনই এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.