ব্রেকিং নিউজ

সখীপুরে ছয় লাখ টাকা দেনমোহরে ধর্ষিতা ধর্ষকের বিয়ে

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু: টাঙ্গাইলের সখীপুরে ধর্ষণের অবশেষে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে ধর্ষিতাকে বিয়ে করলেন ধর্ষক জসিম উদ্দিন (২৫)। গত ২০ জুন বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ এনে উপজেলার পাথারপুর গ্রামের প্রবাসী আলম মিয়ার ছেলে প্রেমিক জসিম উদ্দিনের (২৫) সহ সাত জনের নামে ধর্ষণ মামলা করেন প্রেমিকা। এ ঘটনায় ওইতিন রাতেই জসিম উদ্দিনের নানা বৃদ্ধ দুদু মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ । ২১ জুন রাতে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে ধর্ষিতাকে (প্রেমিকা) বিয়ে করে ঘর সংসার শুরু করে ধর্ষক ( প্রেমিক) জসিম উদ্দিন। এরপর থেকেই মামলা তুলে নিতে সখীপুর থানার ওসি,মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ওকিলের ধারে ধারে ঘুরছেন বাদী ওই তরুণী।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে মেয়েটি জানান, মামলা নয় আমি জসিমকে বিয়ে করে ঘর সংসার করতে চেয়েছিলাম। জসিম ও তার পরিবার রাজী না হওয়ায় আমাকে মামলার আশ্রয় নিতে হয়। মামলার পর জসিম বিয়েতে রাজি হওয়ায় থানা পুলিশ,উভয় পরিবারে লোকজন এবং গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আমরা ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করি। এখন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পুলিশ ও ওকিলের ধারে ধারে ঘুরছি। একই মুঠোফোনে জসিম উদ্দিনও বিয়ে করার কথা স্বীকার করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আজগর আলী জানান- উভয়পক্ষের লোকজন ও মাতাব্বরদের উপস্থিতিতে ওই বিয়ের রেজিস্ট্রি ও মৌলভী দ্বারা বিয়ে পড়ানু হয়। বর্তমানে মেয়েটি জসিমের বাড়িতে আছে এবং ঘর সংসার করছে।

সখীপুর থানার ওসি (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির বলেন- বিয়ে করার বিষয়টি আমিও শুনেছি। মেয়েটি মামলা নিষ্পত্তির ব্যাপারে থানায় আসলে আইনি প্রক্রিয়াই মামলা শেষ হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত: সখীপুর উপজেলার পাথারপুর গ্রামের প্রবাসী আলম মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন দ্ইু বছর আগে চাকুরী নিয়ে মালদ্বীপ যান। ওই তরুণীর সঙ্গে প্রবাসী জসিম উদ্দিনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) পরিচয় হয়। এরপর থেকে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ২৫ মে ছুটিতে জসীম উদ্দিন মালদ্বীপ থেকে দেশে ফিরেই ওই প্রেমিকাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমিক জসিম উদ্দিন একাধিকবার ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে বিয়ের আয়োজন করার কথা বলে জসিম উদ্দিন বাড়ি চলে আসে এবং মেয়েটির সঙ্গে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় গত ২০ জুন রাতে ওই প্রেমিকা সখীপুর থানায় এসে প্রেমিক জসিমসহ ৭ জনের নামে ধর্ষণ মামলা করেন।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.