ব্রেকিং নিউজ

ডিমের বাজার গরম…….

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডিমের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি পিস ডিমের দাম বেড়েছে এক টাকা এবং ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা। আর মাসের ব্যবধানে প্রতি পিস ডিমের দাম বেড়েছে তিন টাকা এবং ডজনে ৩০ টাকার ওপরে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোজার শুরুতে ডিমের দাম কিছুটা বাড়তে থাকলেও মাঝামাঝিতে দাম কমে। ঈদের পরও ডিমের দাম স্থিতিশীল ছিল। তবে তিন সপ্তাহ ধরে তিন দফায় ডিমের দাম বেড়েছে।

ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, ঈদের পরও কিছু কিছু বাজারে ডিমের ডজন ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু গত তিন সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় বেড়ে ডিম এখন অনেকটাই নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন ডিমের যে চাহিদা বাজারে সরবরাহ তার থেকে বেশ কম। বাজারে ডিমের যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, খামারিরা তা সরবরাহ করতে পারছেন না। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় ডিমের দাম বেড়েছে।

তবে সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কারও নজরদারি না থাকায় ডিমের দাম দফায় দফায় বাড়ছে। মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা বাজার নজরদারির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ জন্য ভুগতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে তিন দফা। এর মধ্যে শেষ দুই সপ্তাহ দাম বৃদ্ধির হার ছিল সব থেকে বেশি।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শুধু ডিম বিক্রি করেন এমন ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি ডজন ডিম ১১০-১১৫ টাকায় বিক্রি করছেন। এক সপ্তাহ আগেও ডিমের ডজন বিক্রি করেছেন ১০০-১০৫ টাকা।

খুচরা পর্যায়ে মুদি দোকানে এক পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০-১১ টাকায়। আর হালি হিসাবে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪২ টাকা। এসব ব্যবসায়ীরা ডিমের ডজন বিক্রি করছেন ১১৮-১২০ টাকা। অথচ এক সপ্তাহ আগেও খুচরা দোকানগুলোতে ১০৫ টাকা ডজন ডিম পাওয়া গেছে। আর এক হালি পাওয়া গেছে ৩৫ টাকায়।

মালিবাগ হাজিপাড়ার ব্যবসায়ী মো. সাবু বলেন, ঈদের পর এক ডজন ডিম ৮৫- ৯০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন সেই ডিমের ডজন ১১০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। সম্প্রতি ডিমের যে দাম বেড়েছে তাতে এর নিচে বিক্রি করার উপায় নেই।

রামপুরার ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন বলেন, প্রায় প্রতিদিনই ডিমের দাম বাড়ছে। ৯০ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিমের দাম দেখতে দেখতে ১১০ টাকা হয়েছে। অবস্থা এমন দাম বেড়ে কোথায় গিয়ে থামবে ঠিক নেই। অথচ রোজার মধ্যে ডিমের ডজন ৮৫ টাকায় বিক্রি করেছি। তখনো যারা ডিম কিনতেন এখনো তারাই ডিম কিনছেন। ক্রেতাদের কেনার হারে খুব একটা হেরফের হয়নি।

এতো বেশি দামে ডিম এর আগে কবে বিক্রি করেছে? এমন প্রশ্ন করা হলে এ ব্যবসায়ী বলেন, আমি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ডিমের ব্যবসা করছি। এখন যে দামে ডিম বিক্রি করছি, এতো বেশি দামে গত কোরবানির ঈদের পর কিছুদিন বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এবার তো কোরবানির ঈদের আগেই দাম বেড়ে গেছে।

রামপুরায় আর এক ব্যবসায়ী খাইরুল বলেন, বাজারে এখন ডিমের অনেক চাহিদা। খামারিরা চাহিদা অনুযায়ী ডিম সরবরাহ করে পারছেন না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে। তবে দাম বাড়লেও বিক্রি কমেনি।

এদিকে ডিমের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। রামপুরায় ডিম কিনতে আসা ফাতেমা বেগম বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ডিমের দাম বাড়ছে। প্রথমে এক ডজনের দাম ৯৫-১০০ টাকা হলো। কিন্তু সপ্তাহ না ঘুরতেই এখন ১১৫ টাকা ডজন হয়েছে।

তিনি বলেন, বাজারে কোনো কিছু দামের নিয়ন্ত্রণ নেই। যখন তখন ব্যবসায়ীরা যে কোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এটি নিয়ন্ত্রণ করার কোনো উদ্যোগ। এর আগে গরুর মাংসের দাম হুহু করে বেড়ে গেল। কিন্তু কেউ কোনো পদক্ষেপ নিল না। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে এখন গরুর মাংস আর সাধারণ মানুষের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। ডিম কিনে খাবো তারও যেন উপায় থাকবে না।

খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা মিলন মিয়া বলেন, ডিমের দাম বেড়েছে এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারণ এটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশে ব্যবসায়ীরা যখন যে পণ্যের দাম ইচ্ছামত বাড়িয়ে দিবেন। তাতে কারো কিছু করার নেই। সব ভোগান্তি সাধারণ মানুষের। আমরা বাঁচলাম না মরলাম তাতে কারো কিছু যায় আসে না।

তিনি বলেন, এখন দেশে প্রচুর ফার্মের মুরগি চাষ হচ্ছে। ডিমের উৎপাদন বেশ ভালো। এ পরিস্থিতিতে একটি ডিমের দাম কিছুতেই ১০-১১ টাকা হওয়া স্বাভাবিক নয়। ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে ডিমের দাম বাড়াচ্ছেন খালি চোখেও বোঝা যায়। কিন্তু এসব নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যাদের তারা যেন কিছুই দেখে না।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.