ব্রেকিং নিউজ :

টাঙ্গাইলে কলেজে ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টাকারী জীবন গ্রেফতার

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলে মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা বাজারের আব্দুল হক ভবনে অবস্থিত “যুগবাণী সমাজকল্যাণ সংস্থা” নামে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে পলাতক আসামি মোঃ তানছিরুল ইসলাম জীবন (২৮)’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১২ এর একটি দল। গ্রেফতারকৃত জীবনকে ঢাকার মহাখালী ফ্লাইওভারের নীচ থেকে মঙ্গলবার (০৯ জুলাই) দুপুর দুইটার দিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল কোম্পানীর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. শফিকুর রহমান মুঠোফোনে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, মির্জাপুর থানার মামলা নং-৩১, তারিখ: ২৮ মে ২০১৯, ধারা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ৯(৪)(খ)/৩০ এর প্রধান আসামী মো. তানছিরুল ইসলাম জীবন (২৮) পলাতক অবস্থায় ঢাকায় “উবার” সার্ভিস এ গাড়ি চালায়। তারপর তার ঐ কোম্পানী থেকে তার মোবাইল ও গাড়ীর নম্বর সংগ্রহ করে মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচ থেকে গ্রেফতার করি।

এসময় কোম্পানী কমান্ডার আরো জানান, অভিযুক্ত জীবন এর আগে আরো দুইটি বিয়ে করে। প্রথম স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিদে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে সে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এছাড়াও একাধিক মেয়েকে চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। যা সে নিজের স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার (২৬ মে) সকালে ওই সংস্থার নারী কর্মী আফিয়া বেগমকে দিয়ে এক কলেজ ছাত্রীকে তার কক্ষে ডেকে নেয় জীবন। কেউ না থাকার সুযোগে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে ছাত্রীটি কক্ষ থেকে বের হয়ে আসতে চাইলে মূল দরজা বন্ধ পায়। এ সময় ধর্ষকের হাত থেকে বাঁচতে বারান্দার দরজা দিয়ে পাশের একটি ডোবায় লাফিয়ে পড়ে সে। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করে।

ওই কলেজ ছাত্রী জানান, বেশ কয়েকদিন আগে পরীক্ষা শেষে ফেরার পথে গাড়িতে দেখা হয় জীবনের সাথে। তখন তিনি আমার বিষয়ে জানতে চান। আমি আমার পরিচয় দিলে তিনি তাকে ব্যাংক এশিয়া’র কর্মকর্তা পরিচয় দেন এবং ওই ব্যাংকে চাকরির জন্য লোক নেয়া হবে। আমাকে চাকরি দেয়ার কথা বলেন তিনি। গত রোববার ফোন করে তার এক নারী কর্মীকে পাঠালে তার সাথে আমি ওই অফিসে যাই। অফিসে যাওয়ার পর ওই নারী কর্মী বাইরে বের হয়ে যায়। এ সময় জীবন আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। আমি রাজি না হওয়ায় আমাকে এখান থেকে বের হতে দেয়া হবে না বলে জানান তিনি। পরে আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তখন আমি বের হতে চাইলে মূল দরজা বন্ধ পাই। এ সময় পাশের আরেকটি দরজা খুলে দেখি বারান্দা। তখন কোন উপায় না দেখে আমি দোতলা থেকে লাফ দেই। এরপর আমি আর কিছু জানি না। জ্ঞান ফিরলে আমি দেখি হাসপাতালে।

অভিযুক্ত জীবন ও সংস্থাটি প্রভাবশালী হওয়ায় শাস্তি নিশ্চিতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রাণে বেঁচে যাওয়া ছাত্রীটি।

এই ছাত্রীর মা জানান, আমার মেয়েকে চাকরি দেয়ার কথা বলে ডেকে নেয়া হয়েছিল। পরে ধর্ষণ চেষ্টা করলে ধর্ষকের হাত থেকে বাঁচতে দোতলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের কঠিন বিচার দাবি করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই সংস্থার এক কর্মী বলেন, জীবন স্যার ম্যানেজার হওয়ায় প্রায় সময় অফিসে তিনি একাই থাকতেন। এ সুবাদে মেয়েদের চাকরি দেয়ার কথা বলে অনেক মেয়েকে অফিসে নিয়ে আসতেন। তিনি মেয়েদের ক্ষতি করার চেষ্টা করতেন, কাউকে চাকরি দিতেন না। জীবন এই সংস্থার মালিকের আত্মীয় হওয়ায় এতবড় একটা ঘটনা ঘটানো সত্ত্বেও মালিক পক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু ম্যানেজার পরিবর্তন করেছে।

স্থানীয়রা জানান, এই ম্যানেজার জীবন তার সহযোগী আফিয়ার মাধ্যমে প্রায় প্রতিদিন নতুন নতুন মেয়ে নিয়ে আসত চাকরির কথা বলে। তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। যত বাজে আড্ডা আছে সবই হতো এ অফিসে। এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানে প্রধানকে জানানো হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। এই জঘন্য ঘটনার পর তিনি অফিসে এসেছিলেন। এরপর থেকে জীবনকে আর অফিসে আসতে দেখা যায়নি। নতুন এক ম্যানেজার আসছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে মালিকপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত সকল সদস্য ও এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ এখান থেকে এই প্রতিষ্ঠান অপসারণের দাবি জানান স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. প্রত্যয় বড়ুয়া বলেন, বিভিন্ন পরীক্ষা করার পর মেরুদণ্ডের একটি হাড়ে ফাটল ধরেছে এবং পায়ে আঘাত পেয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাকে এটি বেল্ট দেয়া হয়েছে এবং দেড় মাসের বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে। তিন সপ্তাহ পর তাকে দেখা করতে বলা হয়েছে। তখন দেখে পরবর্তী চিকিৎসা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া এখন আগের থেকে সুস্থ আছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.