অবশেষে বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই পেলেন টাঙ্গাইলের সেই বৃদ্ধা

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: নিয়মের বেড়াজালে সরকারি-বেসরকারি কোন হাসপাতাল এমনকি বৃদ্ধাশ্রমেও ঠাঁই হচ্ছিলনা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিষ্ঠুর পুত্রবধূর ফেলে যাওয়া এক বৃদ্ধার। তখন ঢাকার কল্যাণপুরস্থ “চাইন্ড এন্ড এইজ কেয়ার” নামক একটি বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ঢাকা থেকে এসে রাস্তায় পড়ে থাকা সেই বৃদ্ধাকে নিজেরদের কাছে নিয়ে গেলেন।

রোববার (২১ শে জুলাই) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জামুর্কী বাইপাস এলাকা থেকে “পারি ফাউন্ডেশন” ও “মির্জাপুর আইডিয়াল গ্রুপ” সদস্যদের সহায়তায় ওই বৃদ্ধাকে নিয়ে যান তারা। এর আগে গত ১৮ জুলাই বাসাইল সংবাদ ও ১৯ জুলাই দৈনিক মানবজমিনে বৃদ্ধার করুন অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিভিন্ন মাধ্যমে তা দৃষ্টিগোচর হয় “চাইন্ড এন্ড এইজ কেয়ার” নামক এই বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠানের।

অবশ্য সংবাদ প্রকাশের পরপরই উপজেলার গোড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তার আইডিয়াল গ্রুপ নামের ফেসবুক সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে ওই বৃদ্ধাকে পাশ্ববর্তী একটি বৃদ্ধাশ্রমে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তাকে না রাখায় মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। শেষে ঘোষণা দেন ওই বৃদ্ধার স্থায়ী কোন ব্যবস্থা না করতে পারলে নিজের কাছেই রেখে দিবেন তাকে। কিন্তু অবশেষে ঠিকানা হলো সেই বৃদ্ধার।

চাইন্ড এন্ড এইজ কেয়ার বৃদ্ধাশ্রমের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দার বাসাইলসংবাদকে বলেন, অসহায় ও আশ্রয়হীনদের সেবা করা আমার নেশা। যতদিন বাঁচবো সাধ্যমতো চেষ্টা করবো যেন কোন অসহায়কে রাস্তায় পরে থাকতে না হয়।

প্রসঙ্গত, ব্রিজের পাশে ৬০ উর্ধ্ব বৃদ্ধা শ্বাশুড়ীকে ফেলে গেল এক পাষান্ড পুুত্রবধূ। ফেলে যাওয়ার সময় শ্বাশুড়ী তার মধুর কণ্ঠে বৌমা বৌমা বলে চিৎকার করতে থাকে। তার গগণ বিদারি চিৎকারে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হলেও নিষ্ঠুর বউ মার মন গলেনি। ওই বৃদ্ধা তার কান্নাবিজরিত কণ্ঠে বৌ-মাকে বলতে থাকেন বৌ-মা আমাকে এ নির্জনে একা ফেলে যেওনা। কিন্তু কে শোনে কার কথা। বৃদ্ধার চিৎকার শোনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসতে দেখে ওই পুত্রবধূ দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

এরপর অসহায় বৃদ্ধা নির্জন রাস্তায় পড়ে হাউ-মাউ করে কাঁদতে থাকে। অজ্ঞাত এই বৃদ্ধা মহিলাকে দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। কিন্তু নির্মম এই ধরার মাঝে কেউ যেন কারো নয়। শত উৎসুক জনতার মাঝ থেকে বৃদ্ধাকে তুলে নেয় মির্জাপুর পৌর সভার বাইমহাটী এলাকার স্বামী হারা মালেকা বেওয়া। দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় দেয়া মালেকা বেওয়া ওই বৃদ্ধার জীবনের করুন কাহিনীর বিবরণ দেন। প্রায় ৬মাস আগে ওই বৃদ্ধাকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাড়ই খাল ব্রিজের পাশে ফেলে যায় তার পুুত্রবধূ।

বৃদ্ধাকে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার পর মালেকা বেওয়া তাকে তার বাড়িতে রেখেছিলেন দীর্ঘদিন। মালেকা বেওয়াও অন্যের বাড়িতে থেকে পঙ্গু ছেলেকে নিয়ে ভিক্ষা করে জীবিকানির্বাহ করে আসছে। ভিক্ষার করে অর্জিত টাকা দিয়েই চলছিল আশ্রিতা ও আশ্রয়দাতার জীবন। কিন্তু পুত্রবধূর ফেলে যাওয়া বৃদ্ধার জীবনে সাময়িক স্বর্স্তির এ সময়টুকু যেন সইলো না অনেকের চোখে।

এমনি একজন বাড়ির মালিক ফজলু মিয়া নানা ঝুঁকির চিন্তা করে ওই বৃদ্ধার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বলে মালেকা বেওয়াকে। এমতাবস্থায় মালেকা বেওয়া ওই বৃদ্ধাকে অনত্র থাকার ব্যবস্থার কথা বললে বৃদ্ধা বাড়ি থেকে চলে যায়। বৃদ্ধাটি বর্তমানে কোনও কথা বলতে পারছেন না এবং তার শারীরিক অবস্থাও খুব মুমূর্ষ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.