ব্রেকিং নিউজ :

টাঙ্গাইলে ২০০ পরিবারের মানবেতর জীবন; নেই সরকারি সাহায্য

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইল পৌর এলাকার জেলাসদর ১ নং ওয়ার্ডের সরকারি সুইপার কলোনীতে বন্যার কারণে প্রায় ২’শ পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। লৌহজং নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে এ কলোনীটি বন্যা কবলিত হয়েছে।

সুইপার কলোনীটি জেলা সদরে হওয়া স্বত্বেও এখন পর্যন্ত কোন ধরণের ত্রাণ তৎপরতা কিংবা সরকারি সহযোগিতা দেয়া হয়নি। এ কলোনীর যাতায়াতের একমাত্র কাঠের সেতুটি বন্যার পানির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

সোমবার (২২ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হরি রবি দাস (৬০) গবাদি পশু কোলে নিয়ে কলোনীর পাশে উচু জায়গায় আসতেছে। ছোট ছোট বাচ্চা ও গৃহিনীরা বন্যার দূষিত পানিতে গোসল সহ তাদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ সেরে নিচ্ছে।

জানা গেছে, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য কলোনীর লোকদের রাত্রি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। নেই কোন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ। সবচেয়ে সমস্যার মধ্যে আছে শিশু ও বৃদ্ধরা। দেখা গেল বেশ কিছু শিশুকে তাদের স্কুল ড্রেস হাতে করে নিয়ে বন্যার পানি পাড় হয়ে শুকনো জায়গায় এসে স্কুল ড্রেস পড়ে স্কুলে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বজিৎ রবি দাস জানান, বন্যায় আমাদের ঘরে পানি ওঠায় আমাদের গবাদি পশুসহ হাঁস-মুরগী নিয়ে একত্রে বাঁধের উপর দিন কাটাচ্ছি। আমরা নিম্নবর্ণের মানুয় হওয়ায় জেলা সদরের ভেতরে অবস্থান করা স্বত্বেও কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে সুইপার কলোনীর সাধারণ সম্পাদক বাবু লাল বলেন, লৌহজং নদীর পাড়ে আমাদের কলোনী হওয়ায় নদীর পানির বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের কলোনী বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এতে এ কলোনীর প্রায় ২’শ পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সরকারের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোন ধরণের ত্রাণ সহায়তা করা হয়নি এবং আমাদের যাতায়াতের একমাত্র কাঠের সেতুটি বন্যার পানির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি নামার সাথে সাথে পাড় ভেঙ্গে আমাদের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়বে। তিনি দ্রুত সরকারি সহযোগিতার জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র ফেরদৌস হাসান নোমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে মেয়রের সাথে আলাপ-আলোচনা করেছি। যত দ্রুত সম্ভব ত্রাণ সহযোগিতা ও বন্যার পানি নেমে যাওয়ার নতুন করে সেতু করে দেয়া হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.