ব্রেকিং নিউজ

টাঙ্গাইলে বন্যায় ডুবেছে ৪৪৭ গ্রাম, ১৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলে নদীগুলোতে পানি কমতে শুরু করেছে। বুধবার সকালে যমুনা নদীর পানি কমে বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হলেও দুটি নদীর পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৪ সে.মি. নিচে, ধলেশ্বরী নদীর পানি ১৭ সে.মি. কমে ১০১ সে.মি. এবং ঝিনাই নদীর পানি ২১ সে.মি. কমে বিপদসীমার ১২ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ১০টি উপজেলায় ৫৮ ইউনিয়নের ৪৪৭টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। আর এতে প্রায় ৫ লাখ ২২ হাজার ৯২৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্ধ রয়েছে ২৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর নদী ভাঙনে ফলে ১ হাজার ৩৩০ জন পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। আর এখনো গ্রামীন রাস্তা-ঘাট এবং ফসলী জমি পানির নিতে রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনীয় তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

জেলা প্রশাসনের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের সূত্রে জানা যায়, জেলার ১০টি উপজেলার ৫৮ ইউনিয়নের প্রায় ৪৪৭টি গ্রাম বন্যা কবলতি হয়েছে। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত বা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৯৭টি পরিবার। আর লোক সংখ্যা হলো ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৯৮ জন। নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে প্রায় ১ হাজার ৩৮০টি পরিবারের লোকজন গৃহহীন হয়ে পড়েছে। আর নদীতে ২৬ হাজার ৯১৩টি পরিবারের আংশিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে।

এছাড়া ভূঞাপুর উপজেলায় ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে পায় ২২৫০ লোক আশ্রয় নিয়েছে। অন্যদিকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা এছাড়া আংশিক ৯টি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ কাচা রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৮ কি.মি. ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৫৮ কি.মি.। আংশিক পাকা রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ কি.মি.। ভূঞাপুর-তারাকান্দির অজুনা ইউনিয়নের তারাই অংশের বাধ যমুনা পানির স্রোতে ভেঙে যায়।

এ ছাড়া বন্যার পানিতে টিউবয়েল ৩ হাজার ৭৯৭টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বন্যার পানিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গরু মারা গেছে ৪টি এবং ৫ হাজার ৩শ’ হাস মুরগি বন্যার পানিতে ভেসে যায়।

জেলায় ৬৪টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। অন্যদিকে ভূঞাপুর, ধনবাড়ী, এলেঙ্গ, গোপালপুর ও মির্জাপুর পৌরসভাধীন এলাকাগুলোতে পানি উঠেছে। ইতিমধ্যে বন্যার্তদের মধ্যে ৪৮০ মে.টন চাল ও নগদ টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া গোখাদ্যের জন্য ৪ লাখ ৮০ হাজার, শুকনা খাবার ২ হাজার প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। আড়াই হাজার তাবু বিতরণ করা হয়েছে।

যেসব উপজেলায় পানি প্রবেশ করেছে বা নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো হলো- গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, নাগরপুর, টাঙ্গাইল সদর, মির্জাপুর, ঘাটাইল, বাসাইল এবং ধনবাড়ী, দেলদুয়ার।

১৫ হাজার ১শ’৯২ হেক্টর ফসলি জমি এবং সবজি নিমজ্জিত জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, বন্যার কারণে জেলায় বোনা আমন ৯৮৬০ হেক্টর জমি, রোপা আমন (বীজতলা) ৯৮০ হেক্টর, রোপা আমন (আবাদ) ৬৬৬ হেক্টর, আউশ ১৪৩৭ হেক্টর, বিভিন্ন ধরনের সবজি ১৭১০ হেক্টর, পাট ৪৪৭ হেক্টর, কলা ৩৫ হেক্টর ও লেবু ৫৭ হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.